Saturday, October 8, 2016

বীজাঙ্কুর ( quotient /ratio of a synoptic cleavage )

বীজাঙ্কুর



জলের কলের নীচে পেতে দিচ্ছি
সমকোণে চোখ ধোঁয়া ওঠা দিঘীর অশ্লীল
সেচ্ছ্বা মৃত্যুর ভিতর পা গুছিয়ে জড়োসড়ো
বসে আছে ফুসফুস, সরু ফ্রেমের ধ্বংসস্তূপ
জলের লম্বা ধারা কানের ভিতর ঢূকে যাচ্ছে
নিরবিচ্ছিন্ন, একটা সাউন্ড ট্র্যাকের
চোখ রাঙিয়ে ওঠা; কেন্দ্রচ্যুত বস্তিবাড়ি
ভাতের মাড়, সাবানের জলে পিছল
উঠোন বললে ভুল হবে
আসলে বারান্দা
এখানেই কলের জল
এখানেই কুয়োর পাড়
শুকিয়ে গেলে দিব্যি মাদুরে লেপ্টে যাবে ঘুম



সামনে দিয়ে হেঁটে আসছে তিব্বতী লামা
তার পিছনে উপত্যকার বাদামী ফুল
দূরে একটা লম্বা ঝর্ণা
আপ্রাণ চেষ্টা করছি জলস্তম্ভ ঠেলে সোজা হওয়ার
মাথার ভিতরে জলগুলো বাষ্প হচ্ছে
ইভানের মতো দামী একটা ইউক্যালিপ্টাস্
মাটি ফুঁড়ে গুঁজ়ে দিচ্ছে পরিত্যাক্ত ক্ষুরধার
আকাশের দিকে তাকাচ্ছি না
তারাদের ঘুরে যাওয়া দাপুটে নাবিক নেই
যা কিছু ভাবছি আহা! ঘুড়ির মতোই
নীল মাছি, লাল ফড়িং সুতোয় বাঁধা;
একটা অচেনা উপত্যকায় হ্রদের মতো ঝুঁকে আছি




৩।
হঠাৎ মনে হছে, জলটা উপর থেকে পড়ছে
না, কান থেকে বেড়িয়ে কলের ভিতর ঢুকে যাচ্ছে!
জল খেতে এসেছিলাম এইটুকু মনে  আছে
পথ হাঁটা ধরা-বাঁধা গম্ভীর
পুতুলের মত দস্তাবেজ অনুপুঙ্খের
মেটালিক টাইপরাইটার
মাদুরে সাজিয়ে রাখা কিছু হ্যারিকেন
টালমাটাল উধাও হয়ে যাচ্ছে
জাহাজের নিরুপম
তিস্তা ব্রীজের থেকে ছুটে আসা বাইক
ভোরবেলা পুকুরের পাশে খেজুরের গাছ



সবটুকু জল ঢুকে যাবে
যেভাবে মদ ভরিয়ে দেয় যিশুর পেয়ালা
স্তোত্রপাঠ করছি অহঙ্কারের জোয়ারমুখী
ফুলে উঠছে; ঘুম
কিছুটা ঢেউয়ের স্নানঘর
কুয়োর ভিতরে একটা ভ্যাপসা লাম্পট্য
আমার আঙুলে শুধুই কাঁপাকাঁপা ব্যঞ্জনবর্ণ
ফিতা দিয়ে মেপে রাখা
জলের দৈর্ঘ্য বিন্দুর ব্যস ছিটকে পড়া
আকাশ, চোখের পাতায় রঙিন চাঁদোয়া



বিপন্ন বাধা চুল এলিয়ে পড়ল
রোদের অক্সফোরড, গুটিকয় অন্ধকার ভেজা
শব্দ, নামাজের আঁশটে অকশ্মাৎ
সমস্ত দেহ ভরে যাচ্ছে জলে
ফল্গুর মতো চোরাস্রোত
শ্বাসমূল দাউ দাউ , ভাঙ্গা ঘুড়ি
চেপে বসছে দোহারা পায়চারি
স্থির নাজেহাল চেষ্টা করছি মেঝেতে শুয়ে
কেন্নোটা যেন কানে না ঢোকে
কিছু ইঁট সুরকির গ্রামান্তর গুঁজে দিচ্ছি ঘুমানোর আগে



(জার্নি ৯০সে পুর্ব প্রকাশিত লেখা – ফিয়ে দেখা জেরোগ্রাফির বীজাঙ্কুর)




Wednesday, October 5, 2016

সুজাতা ( a curling TILOTTAMA...)

সুজাতা


ঘুরতে ঘুরতে সুজাতা এসে দাঁড়িয়েছে
রোম নগরীর ঘনিষ্ট কুঁড়ে ঘরে
ঘোড়ার রেসে বাজি ধরতো এক সময় সুজাতা
প্রতিদিন পাইনের সমগোত্রীয় ঋতুকাল আঁকড়ে
বাজী ধরতো সুজাতা আর
রেডিস খসড়াটা আমার দিকে ছুঁড়ে দিতো


আমি ভাবতাম সবচাইতে দাপুটে ঘোড়াটাই
আমার প্রাপ্য
রোমে্র কথা ভাবতাম আর ছুটতাম
ঘোড়ার রেসের বাইরেওবাতাসে সোঁ সোঁ শব্দ তুলে


ইস্তাহারে রাতের মহরতের কথা বলা ছিলো
টবের মাটিতে একটা গাছ রাখা মাথার কাছে
গোঁসাই  ঠাকুর  রাতের বেলা
সুজাতাকে আদর করতো  আর আভিবাদন বাক্য শেখাতো


আমার কেবল একটাই হাত
ল্যাসোর খেলা দেখাতাম অমনি পরিণত  মানুষমাফিক
আর ফাঁক পেলেই ঘোড়া ছুটিয়ে চম্পট

বিভ্রান্তির  মিউজিক্যাল  জাগলারি
এক হাতের লাগামে বিদায় কালীন দাপট
দেখেশুনে সুজাতা ভেবে নিয়েছিলো
ইস্তাহার বা আভিবাদন বাক্য আমি বাংলাতেই লিখব

পরির্ধিত অংশে খস্ খস্ শব্দ
হাতের গভীরে রাখা আছে আসম হাত
রোমের প্রোকনসালকে  দেখেছি  দেড়দিন ধরে পাহাড়া দিতে
গোঁসাই ঠাকুর তো উদাসীন বিভঙ্গে রাজপথে ঘুমন্ত

প্রোকনসাল জানেন সুজাতার মনমতো
পাইনবীজ দরকার
আর আমার চাই অনাবিস্কৃত ঘোড়াদের নাল


ইস্তাহার  তো  অনেকটা প্রশস্ত চওড়া হৃদয়ের করিডর

সর্বশ্রান্ত একটা পানপাত্র  মাঝরাতে  যেমতো  ন্যায় সঙ্গত

সীমানায় সহজিয়া ছড়ানো মদ
আনাহূত ছন্দের ঈশ্বর চেতনা
অন্তঃস্থলের হৃদয়ী জাদুকর

গভীরে গন্ধ ছড়ানো
ফুল আমার সতেজ অতি প্রিয়
প্রবাহের কাছে ভাসছি প্রস্তরীভূত  রংরুটে
সুজাতার চোখও প্রকট  ক্রমাগত

কালো একটা ঘোড়াকে  ডেসপারেটলি  ভালোবাসলে
                                                তা ইউনিকর্ণ হতে বাধ্য





Tuesday, July 19, 2016

সান্ধ্যভাষীর শূন্য পুরাণ


সক্কাল সক্কাল জিভটা বেড়িয়ে পড়েছে মুখ থেকে
জিভ কিছুতেই আমার কথা শুনছে না
সে থাকে তার মর্জিমাফিক
হরদম আমাকেই চলতে হয় জিভের ইচ্ছায়
দুপুরের ঘুম থেকে উঠে রঞ্জাবতী ভাবলেন তিনি হাঁটতে যাবেন
অমনি জিভ, মুখ বেয়ে নেমে সোজা গেট খুলে রাস্তায়
  
জানোতো আমার জিভটা না আর আমার নেই
জিভ নিজেই একটা মানুষ হয়ে গিয়েছে, নিজেই নিজের নাম রেখেছে সান্ধ্যভাষী
আর মানুষ হওয়া মাত্রই ছাইমেখে হাফিস
মুখে কোনো জিভ নেই- আলাজিভ,
ও আলাজিভ, ওইই আলজিভ, আমার মুখে আর কোনো জিভ নেই যে-
  
ওষুধ খেলে জিভ ফিরে আসে
আমার জিভ ওষুধের কথা শোনে
অথচ আমার কথা শোনে না
আমাকে পাত্তাই দেয় না আমার জিভ
রাগ করে বেহুশ কিছু কথা ছুঁড়ে দিলেই
জিভ সেই মাত্র উলটে গলা দিয়ে নামবে
জিভটা না গড়িয়ে গড়িয়ে নামে
আর শিরদাঁড়া চেটে খায়

জিভের ইচ্ছা হল একদিন কুয়ায় নেমে স্নান সারবে
বর্ষার কুয়া, মাথা ঝুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছি কুয়ার রেলিঙে
সক্কলে চোখে চোখে রাখছে বাড়ীতে, ঝাঁপ না দিই
আর আমার জিভ সাপের মতো মুখের থেকে লম্বা হয়ে নামছে
যেন, কুয়ায় বালতি পড়েছে, আর আমি জিভের কাঁটা নামিয়ে
ডোবা বালতি জল ঘেটে তুলে আনবো শ্যওলার গা ঘষটে

সেই ছোট থেকেই জিভ নিয়ে করছি বারা-বাড়ি
সকালে ব্রাশ করতে নেমেই শুরু
আল জিভ, ঝোলা জিভ, জিভে জিভ, ফোলা জিভ
জিভ থ্যাতলে গুড়িয়ে দেবো, কিন্তু জিভ    তবু জিভ
খপ করে ধরে জিভ টানছি, আয়না ভর্তি জিভ
আমার জিভ তোমার লিঙ্গ হয়ে যাচ্ছে
জিভ ছোলার সময়
হড়হড় করে বমি হয়ে গেল কাফ
দগদগে লাল আলজিভের মাথায় আলপিন

জিভে স্বাদ আনতে করলা ভাজলাম
আধ পোড়া কড়াইতে রাখি চেরা লঙ্কা
শসা করলার ঝোল রাঁধুনি ফোড়ন দিয়ে
ধোয়া শসায় জড়িয়ে যায় চুল
শসার এই মৃদু সবুজে বমি আসে
হাফ চেরা শসা দেখলেই জিভ ভারী
চরক ঠাকুর জিভের নিশানে বাণ মেরেছে
জিভ আছে বলে কালী আছে
জিভ আছে বলেই না টাং ক্লিনার
কেমন জিভের মতো ল্যাজ বাঁকিয়ে গাজন ওড়ে
চরকের মেলা শেষে
প্রেমিক এসে কি করে জিভ দেখায় প্রেমিকাকে? 
জ্বরের ঘোরে তিতকুটে হয়ে ওঠা জিভ ডাকছে
আয় জিভ, আয় জিভ, আয়য়য় জিভ,
আয় রে জিভ চেরা
  
লিখতেও ভয় লাগছে-
পুরো শরীরটাই না আজ থকথকে জিভ হয়ে আছে
দুই দুইটা ইনজেকশন দিয়ে যাচ্ছে রোজ
দিল কোমরে কিন্তু আমি জানি
ওইখানে থাকে জিভের টক টক স্বাদ কোরকেরা
আমার কোমরে টক লাগে
মরে গেলে না হয় নাভি পোড়ে না
কিন্তু যেন জিভটাও না পোড়ে, তুই প্লিজ
সেইদিকটা একটু খেয়াল রাখিস, ছাই ঘেঁটে তুলে