সক্কাল
সক্কাল জিভটা বেড়িয়ে পড়েছে মুখ থেকে
জিভ
কিছুতেই আমার কথা শুনছে না
সে
থাকে তার মর্জিমাফিক
হরদম
আমাকেই চলতে হয় জিভের ইচ্ছায়
দুপুরের
ঘুম থেকে উঠে রঞ্জাবতী ভাবলেন তিনি হাঁটতে যাবেন
অমনি
জিভ, মুখ বেয়ে নেমে সোজা গেট খুলে রাস্তায়
জানোতো
আমার জিভটা না আর আমার নেই
জিভ
নিজেই একটা মানুষ হয়ে গিয়েছে, নিজেই নিজের নাম রেখেছে সান্ধ্যভাষী
আর
মানুষ হওয়া মাত্রই ছাইমেখে হাফিস
মুখে
কোনো জিভ নেই- আলাজিভ,
ও
আলাজিভ, ওইই আলজিভ, আমার মুখে আর কোনো জিভ নেই যে-
ওষুধ
খেলে জিভ ফিরে আসে
আমার
জিভ ওষুধের কথা শোনে
অথচ আমার কথা শোনে না
আমাকে
পাত্তাই দেয় না আমার জিভ
রাগ
করে বেহুশ কিছু কথা ছুঁড়ে দিলেই
জিভ
সেই মাত্র উলটে গলা দিয়ে নামবে
জিভটা
না গড়িয়ে গড়িয়ে নামে
আর
শিরদাঁড়া চেটে খায়
জিভের
ইচ্ছা হল একদিন কুয়ায় নেমে স্নান সারবে
বর্ষার
কুয়া, মাথা ঝুকিয়ে দাঁড়িয়ে আছি কুয়ার রেলিঙে
সক্কলে
চোখে চোখে রাখছে বাড়ীতে, ঝাঁপ না দিই
আর
আমার জিভ সাপের মতো মুখের থেকে লম্বা হয়ে নামছে
যেন,
কুয়ায় বালতি পড়েছে, আর আমি জিভের কাঁটা নামিয়ে
ডোবা
বালতি জল ঘেটে তুলে আনবো শ্যওলার গা ঘষটে
সেই
ছোট থেকেই জিভ নিয়ে করছি বারা-বাড়ি
সকালে
ব্রাশ করতে নেমেই শুরু
আল
জিভ, ঝোলা জিভ, জিভে জিভ, ফোলা জিভ
জিভ
থ্যাতলে গুড়িয়ে দেবো, কিন্তু জিভ তবু জিভ
খপ
করে ধরে জিভ টানছি, আয়না ভর্তি জিভ
আমার
জিভ তোমার লিঙ্গ হয়ে যাচ্ছে
জিভ
ছোলার সময়
হড়হড়
করে বমি হয়ে গেল কাফ
দগদগে
লাল আলজিভের মাথায় আলপিন
জিভে
স্বাদ আনতে করলা ভাজলাম
আধ
পোড়া কড়াইতে রাখি চেরা লঙ্কা
শসা
করলার ঝোল রাঁধুনি ফোড়ন দিয়ে
ধোয়া
শসায় জড়িয়ে যায় চুল
শসার
এই মৃদু সবুজে বমি আসে
হাফ
চেরা শসা দেখলেই জিভ ভারী
চরক
ঠাকুর জিভের নিশানে বাণ মেরেছে
জিভ
আছে বলে কালী আছে
জিভ
আছে বলেই না টাং ক্লিনার
কেমন
জিভের মতো ল্যাজ বাঁকিয়ে গাজন ওড়ে
চরকের
মেলা শেষে
প্রেমিক
এসে কি করে জিভ দেখায় প্রেমিকাকে?
জ্বরের
ঘোরে তিতকুটে হয়ে ওঠা জিভ ডাকছে
আয়
জিভ, আয় জিভ, আয়য়য় জিভ,
আয়
রে জিভ চেরা
লিখতেও
ভয় লাগছে-
পুরো
শরীরটাই না আজ থকথকে জিভ হয়ে আছে
দুই
দুইটা ইনজেকশন দিয়ে যাচ্ছে রোজ
দিল
কোমরে কিন্তু আমি জানি
ওইখানে
থাকে জিভের টক টক স্বাদ কোরকেরা
আমার
কোমরে টক লাগে
মরে
গেলে না হয় নাভি পোড়ে না
কিন্তু
যেন জিভটাও না পোড়ে, তুই প্লিজ
সেইদিকটা
একটু খেয়াল রাখিস, ছাই ঘেঁটে তুলে
No comments:
Post a Comment