বীজাঙ্কুর
১।
জলের কলের নীচে পেতে দিচ্ছি
সমকোণে চোখ ধোঁয়া ওঠা দিঘীর অশ্লীল
সেচ্ছ্বা মৃত্যুর ভিতর পা গুছিয়ে জড়োসড়ো
বসে আছে ফুসফুস, সরু ফ্রেমের ধ্বংসস্তূপ
জলের লম্বা ধারা কানের ভিতর ঢূকে যাচ্ছে
নিরবিচ্ছিন্ন, একটা সাউন্ড ট্র্যাকের
চোখ রাঙিয়ে ওঠা; কেন্দ্রচ্যুত বস্তিবাড়ি
ভাতের মাড়, সাবানের জলে পিছল
উঠোন বললে ভুল হবে
আসলে বারান্দা
এখানেই কলের জল
এখানেই কুয়োর পাড়
শুকিয়ে গেলে দিব্যি মাদুরে লেপ্টে যাবে ঘুম।
২।
সামনে দিয়ে হেঁটে আসছে তিব্বতী লামা
তার পিছনে উপত্যকার বাদামী ফুল
দূরে একটা লম্বা ঝর্ণা
আপ্রাণ চেষ্টা করছি জলস্তম্ভ ঠেলে সোজা হওয়ার
মাথার ভিতরে জলগুলো বাষ্প হচ্ছে
ইভানের মতো দামী একটা ইউক্যালিপ্টাস্
মাটি ফুঁড়ে গুঁজ়ে দিচ্ছে পরিত্যাক্ত ক্ষুরধার
আকাশের দিকে তাকাচ্ছি না
তারাদের ঘুরে যাওয়া দাপুটে নাবিক নেই
যা কিছু ভাবছি আহা! ঘুড়ির মতোই
নীল মাছি, লাল ফড়িং সুতোয় বাঁধা;
একটা অচেনা উপত্যকায় হ্রদের মতো ঝুঁকে আছি।
৩।
হঠাৎ মনে হছে, জলটা উপর থেকে পড়ছে
না, কান থেকে বেড়িয়ে কলের ভিতর ঢুকে যাচ্ছে!
জল খেতে এসেছিলাম এইটুকু মনে আছে
পথ হাঁটা ধরা-বাঁধা গম্ভীর
পুতুলের মত দস্তাবেজ ও অনুপুঙ্খের
মেটালিক টাইপরাইটার
মাদুরে সাজিয়ে রাখা কিছু হ্যারিকেন
টালমাটাল উধাও হয়ে যাচ্ছে
জাহাজের নিরুপম
তিস্তা ব্রীজের থেকে ছুটে আসা বাইক ও
ভোরবেলা পুকুরের পাশে খেজুরের গাছ।
৪।
সবটুকু জল ঢুকে যাবে
যেভাবে মদ ভরিয়ে দেয় যিশুর পেয়ালা
স্তোত্রপাঠ করছি অহঙ্কারের জোয়ারমুখী
ফুলে উঠছে; ঘুম
কিছুটা ঢেউয়ের স্নানঘর
কুয়োর ভিতরে একটা ভ্যাপসা লাম্পট্য
আমার আঙুলে শুধুই কাঁপাকাঁপা ব্যঞ্জনবর্ণ
ফিতা দিয়ে মেপে রাখা
জলের দৈর্ঘ্য বিন্দুর ব্যস ছিটকে পড়া
আকাশ, চোখের পাতায় রঙিন চাঁদোয়া।
৫।
বিপন্ন বাধা চুল এলিয়ে পড়ল
রোদের অক্সফোরড, গুটিকয় অন্ধকার ভেজা
শব্দ, নামাজের আঁশটে অকশ্মাৎ
সমস্ত দেহ ভরে যাচ্ছে জলে
ফল্গুর মতো চোরাস্রোত
শ্বাসমূল দাউ দাউ , ভাঙ্গা ঘুড়ি
চেপে বসছে দোহারা পায়চারি
স্থির নাজেহাল চেষ্টা করছি মেঝেতে শুয়ে
কেন্নোটা যেন কানে না ঢোকে
কিছু ইঁট সুরকির গ্রামান্তর গুঁজে দিচ্ছি ঘুমানোর আগে।
(জার্নি ৯০–সে পুর্ব
প্রকাশিত লেখা – ফিয়ে দেখা জেরোগ্রাফির বীজাঙ্কুর)
No comments:
Post a Comment