Sunday, January 24, 2016

উজাগর




খুটিয়ে তোলা ব্রণের দুধ
আমার বয়ঃসন্ধিটা ছিল ঘাবড়ে যাওয়া হাইমেন
আর একটা ভৈরবী রঙ্গ
লে হাওয়ালে ওয়াতন সাথিয়ো হতে
মজ্জা তন্তুর পীয়াসী লোকাতুর
রিগ্রেশনের গ্রেভিতে
আবীর মোড়ানো
খুনিয়া বস্তি
দাঁতাল জি হা-জু-রী
তরুক্ষীর ললাটে বেহাগ ছড়ালো
বসন্ত বউরি


**
আইকম নামের মুষলাধার স্নায়ু
ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়া বলেই ভাগলবা
জিরাফ, ধাক্কাদেওয়া ইউরিনাল
ক্লিশে মতো তুবড়িবাজি ও
শিশি ভর্ত্তি জিভের আতর।
হে কনসার্ট ফেরত ডিজিটাল আখর
রেফের মুক্তকায় ব্রণের ঢেকুর
দিব্য সংশয়শূণ্য
হোঁচটে নামাচ্ছি এক্কা-দোক্কা।


**
জনান্তিকে বেগতিক বিদ্রুপকামী
ওয়াআললাহ্ গুলে খাচ্ছেন ক্যাপুচিনো
চিনা বস্তির সাতাত্তর, উল্টো পীরের
মাগী-মদ্দায় ব্রণের সাংসারিক
তীব্র কটাক্ষ লেপন
তন্দ্রাহত আইল্যাশ
পিরান হা জনিত হাইরাইজের ইততালা
আমার হাতের কিন্তু রেখাপাত আছে
বেফিকর চাঁদনি ব্যাকরণ                                                            
ওগো তুচ্ছ
ওগো নেত্রমণি
মুদিয়ালী নির্জন তিলের ভ্যানিস
পয়েন্ট ব্লাঙ্ক
অগত্যা পাল্টে যাচ্ছে উপদ্রুত


**
সেসব ব্রণের গর্তে নধর ডায়ালগ
ইরেক্ট মার্কা মর্মবিধুর অনুপ্রাস
মাজারে জিন আছে
আছে একটা ধুমসো নাগর
হাঁটু ভর্ত্তি গজিয়ে ওঠা মোহন বাঁশি
আল্লাহতালার শব্দ কেটে বেড়িয়ে আসে
তিস্তাতোর্ষা
কুয়াশায় খাবি খেতে খেতে বিশ্বাসবাবুর কুলকুচে
উর্দু লিপি শেখে বিনিময় প্রথা
আমার শহরে হজরত নামেন। 




Saturday, January 16, 2016

উত্তরায়ন


#
শব্দ ঘর

টুকরো নধর উৎকল

আচ্ছন্ন ফুৎকার আয়ূধ

তনহা মালঞ্চ আজিকার

শব্দ ঘর শব্দ বুনে বুনে ঘর

শব্দের ঘর

#
অবাধ ক্লীবজাত আস্কারা
ভজিয়াছে মন দুগ্ধবাসনা
পেখমে পুচ্ছে মলমল নিদারুণ
কৃষ্ণ পেতে মন আগে কালী সাধনা

#
বেখবর হাওয়া দমাদ্দম
ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিদায় কাঙ্খা
হাঁটছি হাওয়া
মেগা সিরিয়াল
একটা সিরিয়াল কিলার
পা টিপে টিপে দাম্পত্য

#
এভাবে এগিয়ে আসা
যা কিছু দীর্ঘ
সকালের আভা মেখে
প্রাত্যহিক একটা হিতৈষী শব্দ
শব্দবন্ধজাত মৈ্থুন প্রক্রিয়া

#
সময়ের ভিতরে মশারী টানাই
ধাবা থেকে তুলে আনা খাটিয়া
সাঁতরে ওঠে ম্যানিকুইন
ঝোলা গুড় থেকে দৌড়ে আসে আটপৌঢ়ে
ক্যারামালাইজ
খাবি খায় মাঝদুপুর
ভীষ্মায়ন
শয্যার রসিগুলোতে রঙ লাগাই
আঁচড়ে মাখনের মাফিক পিঘালতা সূরজ
আজ স্বর্গারোহন
আজি তবে পুড়িয়ে খাচ্ছি আনাজ
হে পিতামহ অভিসন্ধির আঁতুরে
আজ রাতের রসদ শুধু এই চা-ভাত।

#
সেসব গল্পে আজ আর যাব না
ফিরে তাকাচ্ছি ঘরে
আর হ্রেষার দাপটে ঘরময় বাজিকর
শরীর, শরীর থেকে গড়িয়ে আসা সান্দ্র
সান্দ্র শরীর আর শরীর খুঁড়তে গাঁইতি শাবল
ঠিক ভ্রুয়ের মাঝ হতে বেড়িয়ে এসেছে চামচ
আর সেখানে চোখের সামনে দুলছে নিয়ন
চামচের গর্তে মার্বেল বলে উঠছে চান্দ্রকোষ
এইভাবে ক্রমশ কবিতা থেকে দূরে এসে
কামড়ে খাচ্ছি প্যারালাল টেক্সটের শারীরিক
কবিতা হয়ে উঠেছে ঘর

#
সুগন্ধ জড়িত হরিতাল ঋ
ছন্দ মথিত মৃদু সঞ্চরণ
আরাধ্যগামী
ওগো বাঁশরি মেটালিক
লা ইল লাহ্ ইল্লিলাহ্
বাঁশুরিয়া

#
মেঘলা ছাদের আড়ালে রসুল
ও মেঘময় শঙ্খচিল
শ্লথ চৌহদ্দির ধারাভাষ্যকার।
নদী পেড়োচ্ছে অ্যাভান গার্দ
অসতো মা সাদগময়
হে মাধব কুলপতি...
তমসো মা জ্যোতির্গময়
নশ্বর জিভের হোঁচটে নিরন্ন হাত পেতে আছি




Sunday, November 22, 2015

life of KRISHNA ALIAS DARSHANA





...kudos to all those, who enrich art... and live an unknown life... like a fire... like a wind...

...ART IS BORN LIKE A FIRE OF WHAT ITS BURN...


Tuesday, October 27, 2015

a cappella







a cappella is about a women- a women who chooses not to perform with instrument. she dears, she fears, she loves and learns how to escape through wormhole... silently... intently... 
starts to make her own harmony.


Thursday, June 18, 2015

পয়লা আষাঢ়



গালিচা পাতা রেড ফোর্ড
ঘোরাফেরা করি সভ্যতার প্রথম জলে
রাত বেয়ে নামা লার্ভার ইরাবতী
ক্যাসেলে নীলাম্বর
অপেক্ষাটুকু থাক শুধু একলা ঘরের
যেভাবে পুড়ে যাই ও হয়ে উঠি নিরাকার
মেঘের উত্তরে মেঘ জমে জমে হরিণা, সিংহী অথবা ফ্লাইওভার
এতদিনে এসে প্রেমের কবিতা লিখিয়ে নিচ্ছে
ওফেলিয়ার পোষাকে এজন্মের মঙ্গলধ্বণি
বিন্দুবারি ডাকি ওহি সখি
এই প্রথম আষাঢ়স্য দিবস্


***
রঙের আকুলে ছাপোষা
কোন্ কথা তোমাকে ছুঁয়ে যাবে নাভিকেন্দ্র
একবার ভাবি ভেজা বর্ষাতির মিথ্যাচার
না কি ‘এ ভরা বাদর’
শ্বাসরুদ্ধ অলস শরীরী অন্বেষণ
লেখার কোনো কথাই কখনো ছিলোনা
আসলে লিখবনা বলে বসেও আছি
ক্রমওয়েল পড়ছি আর লিপি আঁকছি
কবিতাকে ঘৃণা করতে চাইছি
গালাগাল দিচ্ছি ভূতগ্রস্থ জঙ্গলপুরাণ
স্নায়ুমুখ স্থানাঙ্ক জুড়ে শাড়ীর হস্তক্ষেপ
আনকোড়া তাঁতের সাক্ষাৎকার


***
গাছ, শব্দ আঁকলেই কবিতার কাছাকাছি
হামামের ঘোলারোদে উজ্জ্বয়নির প্রাচীনা
মফস্বল অলঙ্কারে চমকে ওঠা
বিদ্যুতপৃষ্ট বিগতযৌবন
ডালিমের দানাগুলোর মতোই শান্তিপ্রিয়
একটা উগ্র মেজাজী লজ্জা
যে ছবিগুলো লিখবো বলে ঘুরছি
আর অক্ষর আঁকছি
তাদের একটা দিক মেয়েটির বুকে আছড়ে পড়লো

যে মেয়ে
শূণ্যগর্ভ কামড় লিখে রাখে বাহুতে


***
কেউ দেখতে পাচ্ছে না কোন সে ধূসর
স্বরলিপিতে মৃত্যু লেখা হচ্ছে
অ্যাসপিরিনগুলোকে রঙীন মুক্তোর ভাবনায়
ক্রমশ জলের এসরাজ আর অ্যাশট্রে
এই ঘরেরও কিন্তু একটা গর্ভবতী অঙ্গবাস আছে
আছে তোমাকে আড়াল খোঁজার নিবারণ
আমার স্মৃতি কেবল আমাকেই গন্ডীতে জড়াচ্ছে
পড়ন্ত রোদের হিজল রোয়াক
একটু একটু করে রাবার ঘষে সৎকার করছি রেখা
হারিয়ে যাবে জানি তন্দ্রার পার্কস্ট্রীট
ধোঁয়ার রঞ্জনে আঙ্গুলের তিল

মুছে গেলে যতোটা জমা হয়ে ওঠে বাতাস



Monday, June 15, 2015

মোহনা নুপূর শব্দ...



স্তব্ধ নিরুচ্চারিত বসে আছি
মেহফিল প্রশয়ে দরদিয়া
অক্ষরেখা জানি
যেভাবে জানি দুধের পাগলামি
পোড়া দুধ গন্ধ ছড়াল ভ্যাপসা গরমে
হ্যান্ডবিল কুঁচকে পানিওয়ালার সরু নল
ভরকেন্দ্রে এখন এসেছি নির্ভার
ও প্রিয় বন্ধু সবটুকু গহীনে
চারণ ছুঁয়ে দেখে যা দারুচিনিবাহার



#
পুরোনো যোনীর তীরে
চাপা শ্বাস ফেলে নামিয়ে রাখলি
শিকড়ে-বাকড়ে মায়ার প্রলেপ
আজানকে নামিয়ে এসেছি পুরোনো ঘরে
এতসব কিছু অতীত হচ্ছে- খানেকটা বয়স বাড়ছে
ওদিকে তবে পুরাতনী নামে কেন কোন স্মৃতি নেই?
হাতড়ে যাচ্ছি শুধু স্তনের ভরসা
মা বলে ফেটে যেতে দেখেছি পাখীর শিস্
আঁকড়ে ধরছি প্রবল
মাটি খামচে যেভাবে পাখীদের ঘরে ডিম
কত গভীরে হাত চলে যায়
মুঠোর প্রকাশে মুখের আদল



#
যেখানে পিঙ্গল গুম্ফার ক্ষণ তাপ
যেখানে সহজিয়া আনমন ঝুমুর নিদ্রা
আমরা দেখেছি স্রোতটায় আজলা দরিয়া
বড় নিভৃতে সরে গিয়েছি ভিক্ষুকের লোনা পরাগে
তোমার কাছে আসার ছিল এটুকু জেনেই
প্রস্তুতিপর্ব জমিয়েছি প্রতি অনুনয়
একবার শুধু উপাচারে শান্ত বল
শুধু একবার হাত টেনে পুরোটা বা আরো বেশী
এ জন্মে ঘুমের বিপজ্জনক
সংকেত পেড়িয়ে এসে যে ঝর্ণা জন্ম
তাকে তো ভালবাসা বলে জানি
স্মরণযোগ্য কোনো উজ্জ্বল জানি নেই
নেই কোনো রসুন ছড়ানো তেজিয়াল
কুঁকড়ে পুঞ্চিত হয়ে যাই যেইক্ষণ
কপালে ঠোঁট নেমে আসে
তোকে শুধু বলে রাখি
শব্দের শ্রুতি ক্ষোভ
তোকে আমি খুব
আঁচড়ে ডাকি
রোহিনী বিভাব


#
আমাদের দিগ্বিদিক
সূক্ষ্ণ আঁকড়ে ঘুমজাগানিয়া
দুটো ভারী পাথর ঝুলছে গলার নীচে
কোমরের খাঁজে বসে
স্তন খুঁটে খুঁটে কারুবাকী পোড়াচ্ছি
যে তুমি কাছে আসলে এতটা স্বচ্ছ
দূরেও দেখায় নিপুন গম্ভীর
গলা দীর্ঘ হল
দশভুজার রঙীন গোলক
চন্দ্রহার দুলিয়ে সামনে উঠে এল যে
তাকে দেবী ভাবার আগে
জল দিয়ে কাদা ঘেটে সন্ধ্যা বানাই



#
কিভাবে বলার ছিল কোঁচকানো রাতের উষ্ণ
কথা খুঁড়ে একবার মুখ তুলে আনছি
আবার উঠে আসছে চায়ের বাগান
মাথার খোঁপায় গন্ধের সাম্রাজ্য
পাতা জমিয়ে সাজাচ্ছি শয্যা
ছায়াসুনিবিড় গাছ উল্টে এলো
ছত্রখান বুকের উপরে স্তনের কুচি
হাঁটু মুড়ে বসে দিকভ্রান্ত আকাশকে
শোনাচ্ছি মোহনা নুপূর শব্দ
আমাদের জঙ্গলের যৌথ আজ ঘাসের চাদরে পাতা হয়েছে
সেখানে হাতে হাত রেখে পরিপাটি চান্দ্রকোষ



#
বলা হয়ে ওঠে না
যেদিন অপেক্ষার ভিতর হতে রঙ দেখলাম
যে সময় নিঝুম বলে ভুল করে বসি
তোর চোখের কাঞ্চন নীল
তালুবন্দী ভিখিরি তন্দ্রা

বলা হয়ে ওঠে না
মনি কিসকুর তিক্ত শ্বাস
মত্যুভয় ধরা দিয়ে যায় পললরহিত
দমকা মেঘ শণিতের লিখিত ঘাম
তোকে শুধু তোকে বাজিকর সফেন গন্ধে
একফালি বিম্ববতী ওষ্ঠ
কুড়িয়ে এনে দিয়েছি

যেভাবে বলি নি
স্মৃতির সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে পরিশ্রুত উপশম
অভিমুখগুলো রোদের বিহনে
খুঁজছে জলছাপ আপেলের বন
ওগো বাতির সাঁঝ ও চোখে তো গোধূলি
মায়ের গোড়ালি আর আলতার চিড়
তেপান্তর জড়ানো রেখাবে ট্রাপিজের বিলক্ষণ
ওগো সাঁঝ চোখের তুণীরে সে তো নির্জন
বড় আপন তোর মায়াবী হাত ও হাতের বসন্ততিলক



#
এত বৃষ্টি পাঠাচ্ছি কেন আজ জানা নেই
এতো দহন ছুঁড়ে অভিমানী তন্দ্রা চাইছে গ্রামাঞ্চল
তোর গার্হস্থ্য শীতের পোষাকে
উদভিন্ন পাখীদের স্মৃতি
যারা আজও খুঁড়িয়ে হাঁটে
ভারী স্তনের মখমলে
যে রাত কাটিয়েছি শিরিষ কাগজে ঘষে ঘষে
তার দুফোঁটা শুদ্ধ
আমাদের বাড়ীটা ওই পাহাড়ের ঢালে
সেখানে সন্ধ্যায় মুখচোরা খঞ্জনী ভাসে

  

#
ঠোঁট রেখেছিলি এই তপ্ত মহোরকুঞ্জে
চুরমার হওয়া মেহগিনি শ্যাওলা
ফেরার গল্পটুকু তোর প্রোতাশ্রয়ে
উপচে যায় দহনকাল
আড়াল থেকে দেখে রাখি
স্কুল ফেরতা শাড়ির আঁচল
একটা টগর জন্মেছে গলির মুখে
শাটারের রঙ বদলে গেল একদিন
সন্ধ্যে হলে অন্ধকার জাপটে
ঘুরে আসি
শ্রাবণ ভেজা দোলনার খাঁজে
সই নাম লুকিয়ে ওগো সন্ধ্যা অপেরা
বড় নিভৃত কোল খুঁজি



#
আমাদের সংকীর্তনে আগমনী সংশয়
ছিলো কি কবেকার প্রাচীন মেঘের উদ্ভাস
কোনো কথা মুখ ফুটে আসেনা
চুমুতে নেশাতুর বেগুনী আকাশ
পুড়ে যাচ্ছে ফুটে চলা হরিণা
বন্ধ চোখে ছুঁয়ে থাকা স্নায়ুরেখা
ভোরবেলা আজানের পথ এসো ডুবে যাই
খালি চাঁদ সকালে সুনীলে স্থানুবৎ দুটি হাত

কোলে তুলে নিতে জানে মায়েরা যেভাবে
সদ্য ঘুম ভাঙ্গা শিশুটিকে



#
জানিনা আয়ুর ব্যসার্ধ
তাকে ছিঁড়ে পরিখা টেনে বন্ধ রাখছি নবজাতক
পায়ের নীচ হতে নিপুন তুলির টানে জন্মে যাচ্ছে অঙ্গসজ্জা
মাঝরাতে উঠে আসা পা খুলে নিতে জানে বিষন্নতার রঙ। কতটা নির্মোহ আর লেপ্টে থাকে।
হাত চুলে পড়তেই সেগুলি এক একটা রঙ্গীন সুতো
এবার বোনা হবে নকসিকাঁথা! এসব আয়োজনের মধ্যিটায় বসে রঙের সুতো মিলিয়ে, চুল খুলে, আঁচড়ে, বেনী বেঁধেছিলি- অভিমানী মায়াক্ষণ জড়িয়ে
নক্সা আঁকা ঢালুতে গোধূলি জমে



#
বলেছি কি সকালের ব্যস্ততার প্রান্ত ছুঁয়ে যেদিন জলে ধোঁয়া গাড়ী অপেক্ষা করছিলো আর আমি তন্তুর বায়নায় অতিশয় সামিয়ানা ছিঁড়ে আত্মসাৎ করছি দীপান্তর। সেদিন কি অদ্ভুত শুনশান হয়ে গিয়েছিল। স্বপ্নের মধ্যেও যেদিন দেখলাম মদিরা, চন্দন ও রক্তিম হুতাশনের আলকাপ- যে দিনগুলো আফগানী ভাবের জঙ্ঘা। দূর থেকে সিঁড়ির ওপরে উৎসর্গীকৃত জোৎস্না ভেবে শান্ত দাঁড়িয়ে দেখি, কি অনাবিল নিরুপম এসে জুড়ে যাচ্ছে নাভির পরিখায়।



#
মুখের কাছে মরুময় প্রশ্বাসের রুহিতন
পরবাস ও মন যেখানে ছায়ার প্যালেট
কুসুমে গ্রীবা যূথি, বেলা পোহালো
প্রলেপের মাঝে বসে বলে যাই আহ্লাদী দোষীমুদ্রা
ছায়াপুঞ্জ চুমুতে
ফাগুনের কাছে করেছি তোকে দান
যেসব মুদিয়ালি বারবার ছড়িয়ে দিই উত্তুরে ক্যানোপিতে

আর বৃষ্টির শব্দ দূর হতে ক্রমশ কাছে






নিভৃতে প্রদীপ জ্বলে



১।
অস্তরাগ অস্তরাগ বলে ছুটে গেল জানালার বাইরে কপ্টার
একটা বাক্সের ভিতর প্রসব বেদনা সামলে
নিজেকে দিব্যি মিশিয়ে দেওয়া যায়
মঙ্গোলয়েড অকাল বোধনে।

ঘন হয়ে আসা দীপাবলীর কুয়াশায় চৌকো মোম
কুটির শিল্পের নাম দিচ্ছি শ্বাসকষ্ট জনিত
কথারা ছুটে যাচ্ছে যেন মৌখিক
আসলে সে সকলই শুধু শব্দের মেঠো খেলা।


২।
ভঙ্গিমা আলুলায়িত
আর কি প্রবল শব্দের থেকে যাওয়া
আমার কিন্তু সত্যিই মনে হয়েছিল তুই বাস্তবে আদৌও আছিস তো!
মায়ের মতন স্বাভাবিক সমতট তখন
সমবেত হাতের পকেট
কেন জানিনা মনে হয়েছিলো দ্বিগুন দৃঢ়
আর পুরোটা আদুরে নাভিতলের
প্রতিক্রিয়াকে খুঁজে দেখছি জ্যোৎস্নার হাইওয়েতে।

উপক্রমের ভিতর কি অবিকল মাথায় হাত রাখতেই
মনে হয়েছিল বিসর্জনবেলা।


৩।
ঘুরপথের সিঁড়িটা স্টেশন ছেড়ে বেড়িয়ে গেলে
সাপুরিয়াদের ঝোলানো পায়ে
বেঁধে দিচ্ছি খুচরো ঘুঙুর
বেদেনীর চিবুকে আটকে থাকা লালা মাকড়সা
খুব মদু হয়ে আসা লালচে পাথর
এসব কিছুকে সামলে
পরিসংখ্যানের নীচুতে দাঁড়িয়ে পশ্চিমের অরণ্য।


৪।
পরিবর্তিত ফায়ারপ্লেসের চিমনি বানাচ্ছি এবার
আসলে চুলের রেখার মত নির্ভার করছি
মুখটা ওভারল্যাপ করছে জেনেও
রাজকীয় গানটা জুড়ে দিচ্ছে আবছায়া
জানালার শিকলটায় রিজেনারেটেড হচ্ছে সর্পিল
শীতের করোটি
ভাবীকাল ও যাগযজ্ঞের ছেঁড়া দাগ

ঝলসানো শূকরের মলিন প্রবাসী
বড় অদ্ভুত তোর জ্যাসমিন নোনতা
মেটাল বডিটার গভীরে স্বচ্ছ এচিং
যেখানে পাখীরা ডেকে ফিরে গেলে সন্ধ্যা নামে
যেখানে প্রদীপের খোলা বুকে পড়ে থাকে পাতা।


৫।
আমাদের প্রফুল্ল এখন ক্রমশ দূরে
চিমনির নীচটায় পরিচিত ভগ্নাবশেষ
কুড়িয়ে রাখা রোজকার সানাইটুকু
বিদায়ের পরবর্তী পাকদন্ডী
বিস্তারের স্বদেশীয়

সাইকেলের সামনে ছায়া ছুটছে সূচ্যগ্র
যা কিছু বলতে চাইছি শেষটায়
সবটাই হয়ে যাচ্ছে কীলকের মতো শৌখিন

আত্মদমনের মতো আবদার ঘেরা
ভয় অস্বস্তি আর মেখলার উঠোনবেলা
পুরোটা তোকে যত্নে বানালাম

বড় বেশীরকমের বাস্তব হয়ে আছে
স্তন্যপায়ীর মত আঁকড়ে ধরা
ম্যাজিশিয়ানের নখদর্পন

আসলে মুখটাতো অবিকল কাঙাল থাকতে জানে জানালার উঁকিতে।


৬।
সার্চ লাইট চিরে বেড়িয়ে আসছে
রাতের স্তব্ধতা
বাঁকা চাদরের আড়শি নগর
কেন্দ্র শহুরে
জালকের তীব্র
কি টুকরো, কি ভয়ানক টুকরো এখন
আমার দক্ষিণ গ্রীবা মাস্তুল
বেড়িয়ে আসা স্রাব তীক্ত
নালী কন্ঠ
নুড়ি প্রান্তিক
জোয়ানের পরবর্তী ঘুঁটিরা তাজ্জব
কতটা সাবেকী
মেটেরঙা স্তনবৃন্ত
গর্ভস্থ করা কাঙালের অন্তহীন প্রত্ন
আটকে আছে রাতের মোচড়
ঝুলছে খানেক পর্দার মারমেড

আর ঐ দেখ

কতটা টুকরো পারদের বেগে ছড়িয়ে পড়েছি…




স্নায়ু ঘুম



১।
একটু পরে
ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছে
রাতের অতলে
আমার গল্পের নৌকারা
দুলছে ডাঙ্গায় মাঠের গভীরে
ধূসর কালো যেসব মেঘ
বহুদূর বিশ্রামে তোর কাঁধ খোঁজে
পালকের পিঠ আসন্ন
ব্যাথার ঋজুতে ক্রমাগত
সূর্যের আঁচ লেগে থাকা
এসব উষ্ণ অভিমানী চাপধরা
আড়ালে দাঁড়িয়ে বুকে সীমাহীন
শান্ত মুখ গুজে কেঁদে চলা

তোর এইটুকু ঠিক কতটা সময় পাড় করে


২।
ঘরে পাতা নেই কোনো
ঘর বন্ধ উত্তাপে ছাইদান ঘরের ভিতরে
পাখীদের মত নিজেকে
সাজানো ভূমিকার রাগ ছুঁয়ে
নির্মোহ ছায়া যে বৃত্ত তাকে ডুবে তুলে আনি আঘ্রাণে
আমাদের শারিরীক জ্যামিতির
কোনো ব্যাসার্ধ পড়ে নেই
ক্লান্ত আকাশ পেড়িয়ে
এ স্থান আকাশের উর্ধে
পরবর্তী ক্রমশ তারায় প্রকট
প্রতিবার এইভাবে উড়ে এসে
বসতির বিন্দু বিন্দু জাল গড়ে তলে।


৩।
অনেক আজান পেরিয়ে রূপোলী
সরল রেখায় হলুদের টান
সমবেত ভোরের আলো
কিছুটা ম্লান গলির স্তব্ধ বারবেলা
উঠোনে ছড়ানো শেষ বিকেলের
খুঁটে খাওয়া রোদ্দুর ছায়া-গন্ধ-মাখা
এদেহে ছড়ালো আদরের রক্ত
সোজাসুজি চোখ জলন্ত উদাস
উদাস হিমেল হাওয়া
পশমে ডোরাকাটা অন্তর ভাঁজ করা
এখানে গাছ কোলাহলের পাখী মুলুক
দীর্ঘ দীর্ঘ রেখা প্রেমেদের একা
ছায়ার গন্ধ কোটরে জমানো নীরব-মুক্ত-মালা।



৪।
নীরবে আগুন ঢেলেছি কাঁপা
বিগত মোলাকাত পৃথিবীর বুকে
নতজানু জোছনার গভীরে ছুটে চলা
আকুল উড়ছে বিভোর বিগত
উদ্দাম ঝাউয়ের ক্লান্ত বিষাদ
সহজাত ডুবে যাওয়া
এখানেই একাকী মেশানো
সবুজের মোলায়েম স্বচ্ছ চাদর
ঘাসের শায়িত অকপট দেহ ছায়া


৫।
চুমুতে ঠোঁট নেই কোনো
কাঁপছে শুধু বাঁকা প্রশ্বাস
হালকা আবেশে হাতছানি
অসহ্য মত্যু প্রবাহ
তরল শায়িত
নিদারুণ ঘুম গাছের শরীরে
নাভিগন্ধ চিহ্ন নিজস্ব পুড়ে যাওয়া
এ হোমে আকন্ঠ উদারতা
পুড়ে পুড়ে সমারোহ
অলঙ্কারের নিহত উত্তাপ
ক্লান্তিহীন পাখীদের প্রকাশিত উড়ে যাওয়া


৬।
আমাদের তন্দ্রাহত কালো ভৈরব
হাওয়ার পাশে দামাল
ছুটছে দিন এই আহত
তোর হাতের লিপ্ত নাখর
এ ওষ্ঠ ছাতিম স্তব্ধ বেপরোয়া
লাল ফুলে হৃদয় রেখেছি
আটকে পড়া বাঁকানো যানজটে
ধোঁয়ার কালো হে ভৈরব


নখের আঁচড়ে আহত উঠছি জেগে।