Monday, July 4, 2016

আত্মহত্যার কেস স্টাডিঃ এক


শেষ দিনে এসে চিতার পাশে দাঁড়াবে?
দাহ করে ফিরে সন্তানকে চিনিয়ে দিও... ওওই দেখ অরিয়ন
মাকে বলে চলেছি কবর ছাড়া অন্য কিছু নয় কিন্তু
  কেমন বোকার মতো তাকিয়ে থাকে
কি জানি! হয়তো ভাবে
শামুখ এতো ভয় পায় মেয়েটা,
পিঁপড়া মারে অকারণে
একদিন তো বলেই দিল, ওসব হবে না রে
মাটির নীচে তোর ঠান্ডা লেগে যাবে

তুমি বরং সেখানে নেমে মাফলার দিয়ে এসো তোমার রুমাল রেখে আসবে পাশে কিছু হারালে গিঁট দেবো, অন্ধকারে ঠিক টেপজামা হারিয়ে ফেলবো তুমি জানো,
একটা পায়ের মোজাও খুঁজে পাচ্ছিনা
শরীর খারাপ করলে ডাক্তার সেখানে যেতে পারবে না, এই যা মঙ্গল
আচ্ছা মাটির নীচে কি বালি থাকে? নাকি কেবলই তাল তাল মাটি!
কিছু বালি একটা কাগজে মুড়ে নিয়ে যেও
রেখে এসো মাথার দিকটায়
ছোটবেলার সেই খেলাটা খেলবো
মা চিল্লিয়ে গলা চিরে ফেলছে
                                                                          গরম জল ঠান্ডা হয়ে বরফ হয়ে যাবে এবার
উঠলি তুই অই খান থেকেআর আমি থেবরে বসে, বাগানের বালি, একটু দানা দানা; বাগানের সেই বালি এনে উঠনে পা ছড়িয়ে বসে মাথায় ঢালছি স্নান সেরে উঠে সারা বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা মাথায় আঙুল খুঁচিয়ে সে বালি টেনে টেনে আনবো আর মাটির তল থেকে চুলগুলো সব উঠে আসবে উপরের দিকে, ধরো একটা গাছ মাটির তলায় পুতলাম আর সে গাছ শিকড় ছড়িয়ে পৌঁছে গেল আকাশের কাছাকাছি কিছু পাখী তখন সন্ধ্যায় বাড়ী যাওয়ার পথে আমার চুলের শিকড়ে বসে ডাকবেঠাকুর গোপাল
                                      ঠো ঠো ঠো

এই পাখীটা ডাকলে বাবার গন্ধ ছড়িয়ে যায়
অস্থির অসাড় ধড়ফড় করে ঘুমের ভিতর উঠে বসে বিছানায়
সারাদিনের বিভ্রান্তির ঘোর কাটিয়ে বাজারে যায়
একটাই সেবা দিয়েছে পাখীটা নিয়ম মেনে জীন্দেগীভর
বাজার থেকে কাঁকড়া আসতো
বর্ষার জল ডোবায় উপচে উঠলে
ট্যামন কোঁচা নিয়ে কাঁকড়া মারতে বের হয়
ট্যামনের একটা লিকলিকে মন ছিল
আর ছিল ট্যারা দুই চোখ
দুই চোখ ট্যারা হলে বুঝি কারো নাম ট্যামন
দিতে হয়? বাতাসা লুকিয়ে রাখতাম
সারা বিকেল বর্ষার জলে বাতাসা মুঠি করে ড্রেনের পাড়ে টাকী খুঁজতাম আঠা থিকথিকা হাতের তালু থেকে বাতাসা তুলে মুখে পুড়েই সুতো ধরিয়ে দিতো ট্যামনবলতো বড় হয়ে তোকে একদিন একটা জাল আমি ঠিক কিনে দিবো হেব্বি হবে মাইরি! তুই আর আমি জাল ছড়াবো মতির ডোবায় সুতায় টান পড়তলাল এক কাঁকড়া সন্ধ্যার ভরা ড্রেনের ধার ঘেসে মতির মতো চকচকে জলের আলো গায়ে মেখে হেঁটে হেঁটে বাড়ী ফিরত এরপর কিছুদিন ড্রেন- ডোবা- রাস্তা একাকার হয়ে বৃষ্টি হল খুব অনেক বৃষ্টির সময় মাটির তলে কি হ্য়? হড়হড় করে জল নামে? কবরের সবাই বুঝি স্নান করে সেই জলে অত অন্ধকারে স্নানের পরে গামছা কোথায় পাব বলতো! চিরুনীটাই বা কোন বইয়ের ভাঁজে রেখেছো মনে কি আর আছে? বৃষ্টি কমতেই ট্যামন এসে বললো-
             - চল্ আজকে ভালো কই উঠবে
              - আমাকে খইলসা দিবি দুইটা
                                      - বললাম তো কই উঠবে!
                   - না আমার খইলসাই চাই রঙিন এই দ্যাখ হরলিক্সের বোতল জোগাড় করেছি
                                      - এইটা না দুইদিন আগেই আনলো বাড়ীতে, শেষ! হেব্বি খাস মাইরি তুই
                                      -  হ্যা সব খায়ে ফেললাম, খিদা পায় খুব দুপুরে বইসে বইসে খায়ে ফেললাম তো,কিছুতেই                  পেট ভরলো না  তাও        

কবরের ভিতর দিয়ে কি দারুণ সব পিঁপড়ারা যায়, হাত বাড়িয়ে টপাটপ সেগুলোকে টিপে টিপে মারতে মারতে হাতের আঙুলগুলো গেল খুলে কব্জির হাড় দুটো দিয়ে বাড়ি মারতেই মাটির দলা, তেতুলবিছা, শামুখের খোলা সব নাকে-চোখে-মুখে কানের এফোড় ওফোড় ঢুকে হুড়মুড়িয়ে কেঁচোর দলা মাথায় উঠে আসতে চাইছে ট্যামন ড্রেনের বাঁকটায় হাত ডুবিয়ে চ্যাঙ মাছগুলোকে ধরার জন্য হাঁটু মুড়ে নিঃশব্দে হাত নামিয়ে দিলো জলে, ওপর থেকে দেখলে বোঝা যায় না ট্যামনের হাতের তাবিজ অব্দি জল গভীর সেখানে যতবার হাত ডোবায় চ্যাঙটা ঢুকে যায় কাদায় আবার হাত তোলে আবার খানেক দূরে, আরো শান্ত আরো নিপুন আরো নিস্তব্ধে ডুবিয়ে দিচ্ছে হাত ট্যামন বলে, একটু যদি জাল থাকতো রে হাতে, তোকে আজ খইলসা ধরে দিতামঅই দ্যাখ খইলসা দুটা খেলছে, রঙিন কালভার্টের গোড়ায় এসে জলটা শব্দ করে গর্ত মতো জায়গায় যেখানে পড়েছে সেখানে খেলা করছে দুটা রঙিন খইলসা কিন্তু অতো গভীর থেকে হাত দিয়ে তো আর তুলে আনা যাবে না; দুম করে খুলে ফেললাম একটানে গায়ের টেপজামা
পাখী আঁকা, আমের রসের ছোপ লাগা, ছেঁড়া হুক
সাদা যে টেপজামাটা পড়ে আছি, একটানে খুলে ঝুঁকে টানটান দুটো পাশ ধরে রেখেছি হাঁটুমুড়ে
অন্য দুই প্রান্ত কোণা করে হাঁটু জলে নেমে
জলের তলায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে টেপজামাটাকে ট্যামন
গাছের প্রশাখা জড়িয়ে পাতাগুলো শিরদাঁড়ার আনাচে কানাচে উঁকি দিচ্ছে
এতো ধ্যানস্থ বুঝি মানুষ কেবল কবরের নীচেই থাকতে পারে
কবরে শুয়েই হয়তো বা সঠিক অর্থে আকাশ পাতাল ভাবা যায়

একটা শিরদাঁড়া যদি সর্ব্বোক্ষণ মাটি পা তবে সেখানে ঘাস গজায় কি?

খুব সন্তর্পনে সাদা টেপজামার ওপরে, ঝকঝকে জলের ওপরে দুটো রঙিন খইলসা ঘুর ঘুর করছে ততোধিক নিপুন তালমেলে আমরা ছোট করে আনছি টেপজামার গলুই সুরুত রে একতাল শ্যাওলা জড়িয়ে এলো যে ভাবে কবরের ভিতর ছোট হয়ে আসে বেঁচে থাকা চারকোণা এক করে জল থেকে টেনে তুলে মাছদুটোকে পট করে শ্যাওলা সমেত ঢেলে দেয় ট্যামন হরলিক্সের বোতলে ভেজা টেপজামা ফেরত নেওয়ার সময় শেষবারের জন্য দুইজন দুজনের দিকে তাকিয়ে জিতে যাওয়ায় হাসি হেসেছিলাম শেষবারের মতো ক্যামন ঝুপঝুপা ভেজা চোখ নিয়ে ফেরার সময় খইলসার বোতল কোলে নিয়ে হাইড্রেনের পাশে বসে পা চুবিয়ে বাতাসা খেলাম সন্ধ্যার আগে এত জলের তোড়ে পায়ের পাতা চারটা হড়কে যায়, ঠক ঠক শব্দ করে কালভার্টে ট্যামনের চোখে জলের ছায়া পড়ে, বিড়বিড় করে বলেতোকে একদিন একটা জাল আমি কিনে দিব মাইরি, একদিন ঠিক একটা জাল হবে আমাদের, দেখিস তুই, একটা জাল তোকে আমি দিবোই দিব
ঘরে ফিরে ধুম জ্বর বিছানায় শুয়ে বৃষ্টির শব্দ শুনে দিন যাচ্ছিল বেশএকটু পরপর উঠে মুড়ি ফেলছি বোতলে ঠিক যে দিন জল পাল্টে নতুন জলে লবন ঢেলে মুড়ি দিয়েছি সদ্যসে সময় বাইরে হইচই জ্বরের ধকল তখনো চোখে মুখে, বাইরে বেড়িয়ে দেখি সবাই ছুটছে বড় রাস্তায় ক্যামন হাবাগোবার মতো ভীড়ের মধ্য দিয়ে গলে গলে একেবারে হাইড্রেনের সামনে- ট্যামন ভাসছে
ফ্যাটফেটে সাদা চোখটা সাদা হাত-পাগুলা সাদা, আঙুল গুলান সাদা 
হাইড্রেনের কালভার্টে পাতা জালে পা প্যাচায়ে বাড়ী খাচ্ছে ঠুক ঠুকডুবে যাচ্ছেআবার ভেসে উঠছেআবার ডুবে যাচ্ছেআবার ভেসে উঠে বাড়ী মারছে কালভার্টে
ট্যামনের হাতের তাবিজে জলের ধাক্কা

শরীর ফুফুফুফুফুফুফুফুফুফুফুফুফুলেলেলেলেলেলেলেলেলেলেলেলে বেলুন
এর বাইশ বছর পর সত্যি সত্যি একদিন জাল কিনে দিয়েছে ট্যামন একখানা আস্ত জাল সঙ্গে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি আসলে বাইশ বছর আগেই বাড়ী ফিরে শুয়ে পড়েছিলাম কবরে এতদিন পড়ে কবর থেকে বেড়িয়ে জাল কিনে দিয়েছে ট্যামন আমাকে আর আমি ওই খইলসার বোতলের মুখে ঢাকনা এঁটে বাইশ বছর পরে হাইড্রেনের কিনারে দাঁড়িয়ে ভাসিয়ে দিয়ে এলাম বোতলটাকে কালভার্টের কিনারে আটকে ঠুক ঠুক শব্দ করে ডুবে গেল হরলিক্সের বোতল দুইটা খইলসা মাছকে নিয়ে
কবরে ফেরার দিন এই তো সবে শুরু
তুমি জালে মুড়ে
                       ফেলে এসো কবরকে আমার
  আমার কবরের কিনারে


কবরের পাশ থেকে ফিরে আকাশের তারা দিয়ে ভাত মেখে মুখে তুলে দিও তোমার সন্তানকে





Thursday, June 23, 2016

প্রতিভাস

কল্যানময়ী যাগগৃহ
সুতানট মৎসপ্রিয়া
স্তূতিযোগ্যা আঁশটে আতর
বেরুখী সা নিশুতি সায়ক
রহিত করেছো, যেন জলের কোনো দিক হয় না
কস্তুরী তিলক আঁকি তোমার আঁশটে গোচরে
সবটাই নির্ভুল ইন্দ্রায়ুধ হয়ে যাবে
সবটাই জেনো ঋতুবতী সুশোভনা
জল নিয়ে আসো আবছায়া
জল দিয়ে গড়ি ঐরাবত
জলের তলে ধরে রাখি মৃদুকম্পা
সত্যি আর কক্ষণো আসবে না!
তোমার ভোগ্য তুমিই প্রভূত
রুহ সা এক আয়ত তনহা
তুবড়ির মতো ফুঁসে উঠছি
ভীরু পাখীর নামে লুকিয়ে রাখছি
                   কাঙাল মেধাইন্দ্রী তৈজস
কান্নার জল জমিয়ে রেখে খাই
চারু জল ছিটিয়ে দিচ্ছি দশদিক
এতো রক্ষাকবজ লাগেনি কখনো
এতো বিশাল আয়োজন ছিল না
                    গর্ভবসু ঐ কি তবে অনুষ্টুপ সন্তানসম্ভবা!


Saturday, June 18, 2016

উপাচার

তোমার শিকড় আরো আরো গভীর ছুঁয়ে যাক
ঠিক মাটিকে ঘষে ঘষে প্রদীপ বানাও
কবিতারা উপাচারে এনে দিক মাঝরাত
এইভাবে গাছের শিকড়
রাতের আকাশের কাছাকাছি পাবে সন্ধ্যাতারা
তাকে তুমি পাতা ভেবে জমা রাখবে না জানি
তাকে তুমি কাক স্নান ভিজিয়ে দিয়েছো চৌরাস্তা
স্মৃতি থেকে মুছেই গিয়েছে ঋতুস্রাবে কি কি হ্য়
সারা দিনরাত মশারির ভিতর থাকি
যতক্ষণ মশারির আনাচে-কানাচে-শিয়রে আষাঢ়
নিজেকে আঁশটে লাগে না
মা বলে বলে হদ্য হয়ে যাচ্ছে মশারি গোটা
বালিশ ভাঁজ করে রাখ
রাক্ষুসে পুনশ্চ নিয়ে মাকে শুধরে দিই
গলা টিপে ধরে বলি, এইসকল সয়ে নেবো
সব ভুলে বীজ আঁকো, পরাগে লাগুক সুবাতাস
ঈহিনী তুমি বেশী করে জাপটে নিও ঘরকে তোমার
অভিশাপ এসে স্থাণুবৎ আটকে ধরুক মরা দু’পা
ভাঙনের ডাকনামে সাড়া দিক চক্রায়ূধ কোটিবন্ধ
ঠোঁটে দাঁত গেঁথে গড়িয়ে নামছে রক্তের ক্ষিপ্যমাণ
পাথরের শরীর থেকে লার্ভাশুয়োর আলিঙ্গন
তুলে আনছি, তুলে আনছি নিশ্চুপ প্রার্থনা
শুধুতো শুধুই-তো মাত্র শব্দ কয়টা 



Monday, June 13, 2016

অর্কিড


আঁকছি তোর বক্র রেখায় কিছু প্রিয়দর্শী বোমারু মগ্নবাস
প্রতি মুহূর্ত যেন হয়ে ওঠা না মেলা সূত্রের সংখ্যালঘু
অচেনা ক্রমশ চাপিয়ে দিচ্ছি বৌদ্ধ নিনাদ
ফাগুয়া এখন বিষাদের দিকে পাড়ি জমাচ্ছে
আর ভাঙছি অস্ফুট! কি বেগতিগ ভারাক্রান্ত
হাঁটু উঠে আসতেই বিভেদের অলিখিত ক্ষণ ধরা দিল
প্রতি স্তর খুলে খুলে নিজেকেই এবার শাপ শাপান্ত
কেটে খাচ্ছি নিজের ছায়ার চৌকো শংসাপত্র
আহা! সেই তো নিয়মমাফিক গুড়িয়ে দেওয়া পুনরুদ্ধার
ধর্মের কথায় সুচারু হাসছে বুদ্ধ অনবরত
ওদিকে অ্যাবডোমেনের ঘষামাজায় তীক্ষ্ণ ধূপের গন্ধ

শুধু মায়ের মুখই মনে আসে চোখ বুজলে
আর প্রতিসরণ যোগ্য রুক্ষ রেটিনা

প্যারাসুট ভেদ করে ক্রমশ প্রশ্নোত্তরের সাড়ম্বর
মুছে রাখা সিঁড়িদের যৌথ রেখা
প্রতিটা ধাপ যেখানে অগত্যা পারস্পরিক তাকাবে

মোম জ্বালিয়ে আঁধার আঙুলকে শিখিয়েছিস সৌন্দর্যরাশি
আসলে ধর্মের বাইরে তো এ পৃথিবী কক্ষণো যেতে পারবে না

মিশ্র পাহাড়টা অপদার্থ ফল্গুর মতো বন্ধুসুলভ
আপ্রাণ চুম্বন আঁকছে কৌশলহীন, ফ্লোরাল প্রিন্টের উপশিরায়


মায়ের মুখের পাশে ছড়িয়ে যাক জেহাদী অর্কিড ও যাদুবিচ্ছুরণ।



Sunday, May 22, 2016

সমাগত


প্রদীপের গর্তে ঢুকে যাচ্ছি
ভীষণ তো জানবেনা কক্ষনো গর্ভ যাতনা
কূর্ম অবতারের মতো নিজেকে ঢেকে রাখছি ঢাকনায়
তুমি শুধু তারপাশে ধূপ জ্বালিও
সন্ধ্যাবাতি দাও কি!
হাত পা ধুয়ে এসে রোওওজ না হয় বাবু হয়ে পড়তে ব’সো
স্টাডির দেওয়াল চিড়ে
বইখাতা জড়িয়ে
শিকড় গজাচ্ছে গাছেরা
গাছের পিদ্দিম,
ঘাসের তেল
সলতে পাকানো চিরযৌবনা
আর ঐ মায়া হাত
চোখ তুলে উস্কে দিলে ত্রিপুরমালিনী
যেখানে আমাদের বামস্তন
উদগীরণ, বিস্মৃত সেই উদগীরণ পুনরায় ঋত হোক
পীঁড়ি পাতি আয় হরিদ্রাভ
তোর নূপুর ছুঁয়ে হয়ে উঠি দশানন
এইভাবে মৃত্যুকালে এতাবৎ নিয়ে জুড়ে যাস
হে ইন্দ্রাক্ষী
স্তব্ধ স্টাডির মহামুদ্রায় বসে প্রহর গুনি, অনন্তশীর্ষ
প্রহর গুনি, আর যোগারূঢ় মাতৃবেশ এসে
আমাকে জন্ম দিয়ে যায়


Tuesday, February 2, 2016

বাঞ্ছাকল্পতরু


বসন্ত বিচ্যতু ক্যাথরিন
পরিমাপ ছুঁতে আসা অঙ্গার
আক্ষেপের অনুবাতে মাভৈঃ বলছে নূর
ছেঁড়া পুতুল টানছি
অসুখ বলছি কালাজ্বরমুখী
বহ্মকমল খুলে চৌচির নাভিতল
মৃতদার ও শুভ্রবসনা
সিরিঞ্জ ভর্ত্তি গোধূলি লগ্ন
এরপরও বলবে এসব কবিতা হচ্ছে?
আমার লোকায়ত উড্ডীন থতমত
নেশা ভাঙ থেকে ঘামে ভেজা ইভা
হুমড়ি খেয়ে আছে
যেভাবে ইশারা খাচ্ছে স্কুলড্রেস্
পাচমেন্ট বলে রাখছে অষ্টমঙ্গলা



যৌন ধাতুর কেন্দ্রে আঘ্রাণ ছড়াচ্ছে
মর্মভেদী লোনাঘাম
আলাদাভাবে ভাবতে চাইছি শীত ও বিনুনী
ইনতেকাম্ ভাত মাখছে প্রীতিপরায়ন
ঘনিষ্ট বুক রগড়ে পরান্মুখ অবহুঁ চাহিয়া
বয়স বাড়ছে আর কার্ভেচার জমাচ্ছি ডোমেনে
চক্রবাকী র্নৈঋত বাতিল রাখছি সকাতরে
সন্ধ্যা নামছে
গতিপথচ্যুত



এরপর আর নিজেকে ভালো না বেসে থাকা যায় না
শীত কমিয়ে আলো নিভিয়ে লিখতে বসা
আন্দালৌ জাত এজলাস এপাড়ায় বেপাড়ায়



মাঘের গোচরে জোনাকি ঢালছে কীর্তিনাশা
নাবিকের মুস্তাফি উন্মনা
মুখচোরা অতন্দ্র ধোঁয়া
জরায়ু জুড়ে ডাইনী তন্দ্রা
লক্ষ্য রাখছি ওগো ঘনায়মান
গর্ভ ধূপ আত্ম স্বভাব গরিমা
এখনো বলছি এগুলো কবিতা হচ্ছেনা
লেখার আদলে শীর্ষসুখ বাগদি
উম্ কুড়িয়ে
সহচরী লীনতাপ
আও, লেগাসি দীপ্ত তপোবন
আদরণীয় দীন দুনিয়া



অক্ষর বোনার অতিরিক্ত
কোন মুদ্রাদোষ নেই
নেই মর্ত্য আঁচল সংগোপন
ত্বরা, জরা, তন্দ্রাহারা এ কালোচ্ছ্বাস
প্রভু নাভিরন্ধ্রে শ্লেষাময় কিস্তিমাত
পুঙ্খানু রংমশাল
ওগো সীমাহীন
ওহে সাঁই
প্রবাদের হাতে ভাসালাম



এইবার ঠিক ঠিক দেখতে পাচ্ছি
পতিতা বাতাস ফোস্কা ফেলছে হাহাকারে
প্রান্তবর্তী অ্যালগরিদম
অস্ফুট অপরাহ্নগুচ্ছ
আচমনে উঠে আসে যুক্তাক্ষর
লোহাগড়
বজ্রসেন এই তল্লাটে গুনীন সেজে
এইভাবে ছুঁতে চায় অনুকম্পা
আঙুলে ছড়ালো বিতশোক পূর্ণস্য
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেভাবশিষ্যতে
আর শোণিতের আরো অনেক পশ্চিমে
ধূলিবিন্দু কনিয়াক অপরাহ্নে -
শক্তপোক্ত কৌন্তেয় জালিয়াত
মস্করা মাখা যু্যুধান ছিঁড়ে
গলদ ঘর্ম মহেন্দ্রনিন্দিতকান্তি



তবু এখনো বলবো কবিতা হচ্ছে কোথায়!
নিরবিচ্ছিন্ন একটাই কবিতা কিভাবে?
কবিতার কথায় খিস্তিখেউর টানছি রেখায়
অবশিঞ্জীনি খুসবু আর কুহু বাতাসগামী কবিতা
টানা ছ’ঘন্টা কান্না উগরে
বদগন্ধ প্রপাতে হুলিগান দোঁহা
গুলালে নামাজে আলতো কালাজ্বর
এইসব সড়গড় লিখে যাচ্ছি আসলে
কাঁদছিনাতো ছিঁটে-ফোঁটাও-
ব্লার হতে চাওয়া শ্যামঅঙ্গ
কি নিথর দীনহীন এইপাড়া আর সে’পাড়া



এখনতো মাঝে মধ্যেই সন্দেহ করে বসি শব্দদের
হদ্য কাঙাল দাঁড়িয়ে থাকি অক্ষরের পরিবৃত্তে
হাওয়াঘর জুড়ে পুরবাসী, রাজ্যচ্যুত ত্রিনয়না
শুরু ও শেষের ঠিক মাঝে শাফলরূপী ইবাদত
আর এইসব ক্ষণ কবিতা হয়ে যায় লেবুফলে
আছে ক্রণিক, ময়ামে শিফনে বিম্ব দ্যুতি মুহ্যমান
দুঃখ পাবে একপশলা ভাঙচুর, দ্যাটস্ আমোরে
নর্তকী এ্যাভিনিউ, মেঘের রাস্তাঘাট, মোহন আলসেমি
আর লেবুফল গড়াগড়ি যায় রোদ মাখা বিছানাতে -
অন্তরাল চায় দানবীয় সীগাল, কবিতা মাখি দোস্ত
পালাগান ভুবনময়ী, মানিনী রাধা দাঁড়িয়ে রয়্যাল ব্লুতে
দোস্ত স্মৃতি সুচেতনা নয় কুঠুরি, এ তব অষ্টম দরজা
একটা বেলোয়ারি ছন্দ ঢেউ তুলছে, বলছে খাআআবো-
খুঁটে খুঁটে দরদী ঘাম; উপলে সংক্রামিত উপক্রমণিকা
তবু বলি দোস্ত স্নেহবতী অক্ষরজাল জাপটে থাক সনাতনী
আমাকে আধেক আতপ রঙা দেশকাল গড়ে দিক তিলেতিলে



সাঁই স্রোতের কিঞ্চিত এভাবেই গুজরাণ
মাঘের চাদরে শতছিন্ন ভিখারিণী
ছায়াছন্ন কুন্ডলীর সহজিয়া এতাবৎ
আঁধার পশলা চূড়ামণি
ওগো নীরবে রাখি
কালঘাম পুলকিত সখী লো
হাত পাতি মুর্শিদ আয়ুরেখা সম্বল
শব্দ কেটে কেটে মধ্যরাত গড়ে তোলে
মা তোমার দুধের আদল 



Sunday, January 24, 2016

উজাগর




খুটিয়ে তোলা ব্রণের দুধ
আমার বয়ঃসন্ধিটা ছিল ঘাবড়ে যাওয়া হাইমেন
আর একটা ভৈরবী রঙ্গ
লে হাওয়ালে ওয়াতন সাথিয়ো হতে
মজ্জা তন্তুর পীয়াসী লোকাতুর
রিগ্রেশনের গ্রেভিতে
আবীর মোড়ানো
খুনিয়া বস্তি
দাঁতাল জি হা-জু-রী
তরুক্ষীর ললাটে বেহাগ ছড়ালো
বসন্ত বউরি


**
আইকম নামের মুষলাধার স্নায়ু
ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়া বলেই ভাগলবা
জিরাফ, ধাক্কাদেওয়া ইউরিনাল
ক্লিশে মতো তুবড়িবাজি ও
শিশি ভর্ত্তি জিভের আতর।
হে কনসার্ট ফেরত ডিজিটাল আখর
রেফের মুক্তকায় ব্রণের ঢেকুর
দিব্য সংশয়শূণ্য
হোঁচটে নামাচ্ছি এক্কা-দোক্কা।


**
জনান্তিকে বেগতিক বিদ্রুপকামী
ওয়াআললাহ্ গুলে খাচ্ছেন ক্যাপুচিনো
চিনা বস্তির সাতাত্তর, উল্টো পীরের
মাগী-মদ্দায় ব্রণের সাংসারিক
তীব্র কটাক্ষ লেপন
তন্দ্রাহত আইল্যাশ
পিরান হা জনিত হাইরাইজের ইততালা
আমার হাতের কিন্তু রেখাপাত আছে
বেফিকর চাঁদনি ব্যাকরণ                                                            
ওগো তুচ্ছ
ওগো নেত্রমণি
মুদিয়ালী নির্জন তিলের ভ্যানিস
পয়েন্ট ব্লাঙ্ক
অগত্যা পাল্টে যাচ্ছে উপদ্রুত


**
সেসব ব্রণের গর্তে নধর ডায়ালগ
ইরেক্ট মার্কা মর্মবিধুর অনুপ্রাস
মাজারে জিন আছে
আছে একটা ধুমসো নাগর
হাঁটু ভর্ত্তি গজিয়ে ওঠা মোহন বাঁশি
আল্লাহতালার শব্দ কেটে বেড়িয়ে আসে
তিস্তাতোর্ষা
কুয়াশায় খাবি খেতে খেতে বিশ্বাসবাবুর কুলকুচে
উর্দু লিপি শেখে বিনিময় প্রথা
আমার শহরে হজরত নামেন। 




Saturday, January 16, 2016

উত্তরায়ন


#
শব্দ ঘর

টুকরো নধর উৎকল

আচ্ছন্ন ফুৎকার আয়ূধ

তনহা মালঞ্চ আজিকার

শব্দ ঘর শব্দ বুনে বুনে ঘর

শব্দের ঘর

#
অবাধ ক্লীবজাত আস্কারা
ভজিয়াছে মন দুগ্ধবাসনা
পেখমে পুচ্ছে মলমল নিদারুণ
কৃষ্ণ পেতে মন আগে কালী সাধনা

#
বেখবর হাওয়া দমাদ্দম
ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিদায় কাঙ্খা
হাঁটছি হাওয়া
মেগা সিরিয়াল
একটা সিরিয়াল কিলার
পা টিপে টিপে দাম্পত্য

#
এভাবে এগিয়ে আসা
যা কিছু দীর্ঘ
সকালের আভা মেখে
প্রাত্যহিক একটা হিতৈষী শব্দ
শব্দবন্ধজাত মৈ্থুন প্রক্রিয়া

#
সময়ের ভিতরে মশারী টানাই
ধাবা থেকে তুলে আনা খাটিয়া
সাঁতরে ওঠে ম্যানিকুইন
ঝোলা গুড় থেকে দৌড়ে আসে আটপৌঢ়ে
ক্যারামালাইজ
খাবি খায় মাঝদুপুর
ভীষ্মায়ন
শয্যার রসিগুলোতে রঙ লাগাই
আঁচড়ে মাখনের মাফিক পিঘালতা সূরজ
আজ স্বর্গারোহন
আজি তবে পুড়িয়ে খাচ্ছি আনাজ
হে পিতামহ অভিসন্ধির আঁতুরে
আজ রাতের রসদ শুধু এই চা-ভাত।

#
সেসব গল্পে আজ আর যাব না
ফিরে তাকাচ্ছি ঘরে
আর হ্রেষার দাপটে ঘরময় বাজিকর
শরীর, শরীর থেকে গড়িয়ে আসা সান্দ্র
সান্দ্র শরীর আর শরীর খুঁড়তে গাঁইতি শাবল
ঠিক ভ্রুয়ের মাঝ হতে বেড়িয়ে এসেছে চামচ
আর সেখানে চোখের সামনে দুলছে নিয়ন
চামচের গর্তে মার্বেল বলে উঠছে চান্দ্রকোষ
এইভাবে ক্রমশ কবিতা থেকে দূরে এসে
কামড়ে খাচ্ছি প্যারালাল টেক্সটের শারীরিক
কবিতা হয়ে উঠেছে ঘর

#
সুগন্ধ জড়িত হরিতাল ঋ
ছন্দ মথিত মৃদু সঞ্চরণ
আরাধ্যগামী
ওগো বাঁশরি মেটালিক
লা ইল লাহ্ ইল্লিলাহ্
বাঁশুরিয়া

#
মেঘলা ছাদের আড়ালে রসুল
ও মেঘময় শঙ্খচিল
শ্লথ চৌহদ্দির ধারাভাষ্যকার।
নদী পেড়োচ্ছে অ্যাভান গার্দ
অসতো মা সাদগময়
হে মাধব কুলপতি...
তমসো মা জ্যোতির্গময়
নশ্বর জিভের হোঁচটে নিরন্ন হাত পেতে আছি




Sunday, November 22, 2015

life of KRISHNA ALIAS DARSHANA





...kudos to all those, who enrich art... and live an unknown life... like a fire... like a wind...

...ART IS BORN LIKE A FIRE OF WHAT ITS BURN...