Sunday, May 22, 2016

সমাগত


প্রদীপের গর্তে ঢুকে যাচ্ছি
ভীষণ তো জানবেনা কক্ষনো গর্ভ যাতনা
কূর্ম অবতারের মতো নিজেকে ঢেকে রাখছি ঢাকনায়
তুমি শুধু তারপাশে ধূপ জ্বালিও
সন্ধ্যাবাতি দাও কি!
হাত পা ধুয়ে এসে রোওওজ না হয় বাবু হয়ে পড়তে ব’সো
স্টাডির দেওয়াল চিড়ে
বইখাতা জড়িয়ে
শিকড় গজাচ্ছে গাছেরা
গাছের পিদ্দিম,
ঘাসের তেল
সলতে পাকানো চিরযৌবনা
আর ঐ মায়া হাত
চোখ তুলে উস্কে দিলে ত্রিপুরমালিনী
যেখানে আমাদের বামস্তন
উদগীরণ, বিস্মৃত সেই উদগীরণ পুনরায় ঋত হোক
পীঁড়ি পাতি আয় হরিদ্রাভ
তোর নূপুর ছুঁয়ে হয়ে উঠি দশানন
এইভাবে মৃত্যুকালে এতাবৎ নিয়ে জুড়ে যাস
হে ইন্দ্রাক্ষী
স্তব্ধ স্টাডির মহামুদ্রায় বসে প্রহর গুনি, অনন্তশীর্ষ
প্রহর গুনি, আর যোগারূঢ় মাতৃবেশ এসে
আমাকে জন্ম দিয়ে যায়


Tuesday, February 2, 2016

বাঞ্ছাকল্পতরু


বসন্ত বিচ্যতু ক্যাথরিন
পরিমাপ ছুঁতে আসা অঙ্গার
আক্ষেপের অনুবাতে মাভৈঃ বলছে নূর
ছেঁড়া পুতুল টানছি
অসুখ বলছি কালাজ্বরমুখী
বহ্মকমল খুলে চৌচির নাভিতল
মৃতদার ও শুভ্রবসনা
সিরিঞ্জ ভর্ত্তি গোধূলি লগ্ন
এরপরও বলবে এসব কবিতা হচ্ছে?
আমার লোকায়ত উড্ডীন থতমত
নেশা ভাঙ থেকে ঘামে ভেজা ইভা
হুমড়ি খেয়ে আছে
যেভাবে ইশারা খাচ্ছে স্কুলড্রেস্
পাচমেন্ট বলে রাখছে অষ্টমঙ্গলা



যৌন ধাতুর কেন্দ্রে আঘ্রাণ ছড়াচ্ছে
মর্মভেদী লোনাঘাম
আলাদাভাবে ভাবতে চাইছি শীত ও বিনুনী
ইনতেকাম্ ভাত মাখছে প্রীতিপরায়ন
ঘনিষ্ট বুক রগড়ে পরান্মুখ অবহুঁ চাহিয়া
বয়স বাড়ছে আর কার্ভেচার জমাচ্ছি ডোমেনে
চক্রবাকী র্নৈঋত বাতিল রাখছি সকাতরে
সন্ধ্যা নামছে
গতিপথচ্যুত



এরপর আর নিজেকে ভালো না বেসে থাকা যায় না
শীত কমিয়ে আলো নিভিয়ে লিখতে বসা
আন্দালৌ জাত এজলাস এপাড়ায় বেপাড়ায়



মাঘের গোচরে জোনাকি ঢালছে কীর্তিনাশা
নাবিকের মুস্তাফি উন্মনা
মুখচোরা অতন্দ্র ধোঁয়া
জরায়ু জুড়ে ডাইনী তন্দ্রা
লক্ষ্য রাখছি ওগো ঘনায়মান
গর্ভ ধূপ আত্ম স্বভাব গরিমা
এখনো বলছি এগুলো কবিতা হচ্ছেনা
লেখার আদলে শীর্ষসুখ বাগদি
উম্ কুড়িয়ে
সহচরী লীনতাপ
আও, লেগাসি দীপ্ত তপোবন
আদরণীয় দীন দুনিয়া



অক্ষর বোনার অতিরিক্ত
কোন মুদ্রাদোষ নেই
নেই মর্ত্য আঁচল সংগোপন
ত্বরা, জরা, তন্দ্রাহারা এ কালোচ্ছ্বাস
প্রভু নাভিরন্ধ্রে শ্লেষাময় কিস্তিমাত
পুঙ্খানু রংমশাল
ওগো সীমাহীন
ওহে সাঁই
প্রবাদের হাতে ভাসালাম



এইবার ঠিক ঠিক দেখতে পাচ্ছি
পতিতা বাতাস ফোস্কা ফেলছে হাহাকারে
প্রান্তবর্তী অ্যালগরিদম
অস্ফুট অপরাহ্নগুচ্ছ
আচমনে উঠে আসে যুক্তাক্ষর
লোহাগড়
বজ্রসেন এই তল্লাটে গুনীন সেজে
এইভাবে ছুঁতে চায় অনুকম্পা
আঙুলে ছড়ালো বিতশোক পূর্ণস্য
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেভাবশিষ্যতে
আর শোণিতের আরো অনেক পশ্চিমে
ধূলিবিন্দু কনিয়াক অপরাহ্নে -
শক্তপোক্ত কৌন্তেয় জালিয়াত
মস্করা মাখা যু্যুধান ছিঁড়ে
গলদ ঘর্ম মহেন্দ্রনিন্দিতকান্তি



তবু এখনো বলবো কবিতা হচ্ছে কোথায়!
নিরবিচ্ছিন্ন একটাই কবিতা কিভাবে?
কবিতার কথায় খিস্তিখেউর টানছি রেখায়
অবশিঞ্জীনি খুসবু আর কুহু বাতাসগামী কবিতা
টানা ছ’ঘন্টা কান্না উগরে
বদগন্ধ প্রপাতে হুলিগান দোঁহা
গুলালে নামাজে আলতো কালাজ্বর
এইসব সড়গড় লিখে যাচ্ছি আসলে
কাঁদছিনাতো ছিঁটে-ফোঁটাও-
ব্লার হতে চাওয়া শ্যামঅঙ্গ
কি নিথর দীনহীন এইপাড়া আর সে’পাড়া



এখনতো মাঝে মধ্যেই সন্দেহ করে বসি শব্দদের
হদ্য কাঙাল দাঁড়িয়ে থাকি অক্ষরের পরিবৃত্তে
হাওয়াঘর জুড়ে পুরবাসী, রাজ্যচ্যুত ত্রিনয়না
শুরু ও শেষের ঠিক মাঝে শাফলরূপী ইবাদত
আর এইসব ক্ষণ কবিতা হয়ে যায় লেবুফলে
আছে ক্রণিক, ময়ামে শিফনে বিম্ব দ্যুতি মুহ্যমান
দুঃখ পাবে একপশলা ভাঙচুর, দ্যাটস্ আমোরে
নর্তকী এ্যাভিনিউ, মেঘের রাস্তাঘাট, মোহন আলসেমি
আর লেবুফল গড়াগড়ি যায় রোদ মাখা বিছানাতে -
অন্তরাল চায় দানবীয় সীগাল, কবিতা মাখি দোস্ত
পালাগান ভুবনময়ী, মানিনী রাধা দাঁড়িয়ে রয়্যাল ব্লুতে
দোস্ত স্মৃতি সুচেতনা নয় কুঠুরি, এ তব অষ্টম দরজা
একটা বেলোয়ারি ছন্দ ঢেউ তুলছে, বলছে খাআআবো-
খুঁটে খুঁটে দরদী ঘাম; উপলে সংক্রামিত উপক্রমণিকা
তবু বলি দোস্ত স্নেহবতী অক্ষরজাল জাপটে থাক সনাতনী
আমাকে আধেক আতপ রঙা দেশকাল গড়ে দিক তিলেতিলে



সাঁই স্রোতের কিঞ্চিত এভাবেই গুজরাণ
মাঘের চাদরে শতছিন্ন ভিখারিণী
ছায়াছন্ন কুন্ডলীর সহজিয়া এতাবৎ
আঁধার পশলা চূড়ামণি
ওগো নীরবে রাখি
কালঘাম পুলকিত সখী লো
হাত পাতি মুর্শিদ আয়ুরেখা সম্বল
শব্দ কেটে কেটে মধ্যরাত গড়ে তোলে
মা তোমার দুধের আদল 



Sunday, January 24, 2016

উজাগর




খুটিয়ে তোলা ব্রণের দুধ
আমার বয়ঃসন্ধিটা ছিল ঘাবড়ে যাওয়া হাইমেন
আর একটা ভৈরবী রঙ্গ
লে হাওয়ালে ওয়াতন সাথিয়ো হতে
মজ্জা তন্তুর পীয়াসী লোকাতুর
রিগ্রেশনের গ্রেভিতে
আবীর মোড়ানো
খুনিয়া বস্তি
দাঁতাল জি হা-জু-রী
তরুক্ষীর ললাটে বেহাগ ছড়ালো
বসন্ত বউরি


**
আইকম নামের মুষলাধার স্নায়ু
ক্লাসরুমের বাইরে দাঁড়া বলেই ভাগলবা
জিরাফ, ধাক্কাদেওয়া ইউরিনাল
ক্লিশে মতো তুবড়িবাজি ও
শিশি ভর্ত্তি জিভের আতর।
হে কনসার্ট ফেরত ডিজিটাল আখর
রেফের মুক্তকায় ব্রণের ঢেকুর
দিব্য সংশয়শূণ্য
হোঁচটে নামাচ্ছি এক্কা-দোক্কা।


**
জনান্তিকে বেগতিক বিদ্রুপকামী
ওয়াআললাহ্ গুলে খাচ্ছেন ক্যাপুচিনো
চিনা বস্তির সাতাত্তর, উল্টো পীরের
মাগী-মদ্দায় ব্রণের সাংসারিক
তীব্র কটাক্ষ লেপন
তন্দ্রাহত আইল্যাশ
পিরান হা জনিত হাইরাইজের ইততালা
আমার হাতের কিন্তু রেখাপাত আছে
বেফিকর চাঁদনি ব্যাকরণ                                                            
ওগো তুচ্ছ
ওগো নেত্রমণি
মুদিয়ালী নির্জন তিলের ভ্যানিস
পয়েন্ট ব্লাঙ্ক
অগত্যা পাল্টে যাচ্ছে উপদ্রুত


**
সেসব ব্রণের গর্তে নধর ডায়ালগ
ইরেক্ট মার্কা মর্মবিধুর অনুপ্রাস
মাজারে জিন আছে
আছে একটা ধুমসো নাগর
হাঁটু ভর্ত্তি গজিয়ে ওঠা মোহন বাঁশি
আল্লাহতালার শব্দ কেটে বেড়িয়ে আসে
তিস্তাতোর্ষা
কুয়াশায় খাবি খেতে খেতে বিশ্বাসবাবুর কুলকুচে
উর্দু লিপি শেখে বিনিময় প্রথা
আমার শহরে হজরত নামেন। 




Saturday, January 16, 2016

উত্তরায়ন


#
শব্দ ঘর

টুকরো নধর উৎকল

আচ্ছন্ন ফুৎকার আয়ূধ

তনহা মালঞ্চ আজিকার

শব্দ ঘর শব্দ বুনে বুনে ঘর

শব্দের ঘর

#
অবাধ ক্লীবজাত আস্কারা
ভজিয়াছে মন দুগ্ধবাসনা
পেখমে পুচ্ছে মলমল নিদারুণ
কৃষ্ণ পেতে মন আগে কালী সাধনা

#
বেখবর হাওয়া দমাদ্দম
ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিদায় কাঙ্খা
হাঁটছি হাওয়া
মেগা সিরিয়াল
একটা সিরিয়াল কিলার
পা টিপে টিপে দাম্পত্য

#
এভাবে এগিয়ে আসা
যা কিছু দীর্ঘ
সকালের আভা মেখে
প্রাত্যহিক একটা হিতৈষী শব্দ
শব্দবন্ধজাত মৈ্থুন প্রক্রিয়া

#
সময়ের ভিতরে মশারী টানাই
ধাবা থেকে তুলে আনা খাটিয়া
সাঁতরে ওঠে ম্যানিকুইন
ঝোলা গুড় থেকে দৌড়ে আসে আটপৌঢ়ে
ক্যারামালাইজ
খাবি খায় মাঝদুপুর
ভীষ্মায়ন
শয্যার রসিগুলোতে রঙ লাগাই
আঁচড়ে মাখনের মাফিক পিঘালতা সূরজ
আজ স্বর্গারোহন
আজি তবে পুড়িয়ে খাচ্ছি আনাজ
হে পিতামহ অভিসন্ধির আঁতুরে
আজ রাতের রসদ শুধু এই চা-ভাত।

#
সেসব গল্পে আজ আর যাব না
ফিরে তাকাচ্ছি ঘরে
আর হ্রেষার দাপটে ঘরময় বাজিকর
শরীর, শরীর থেকে গড়িয়ে আসা সান্দ্র
সান্দ্র শরীর আর শরীর খুঁড়তে গাঁইতি শাবল
ঠিক ভ্রুয়ের মাঝ হতে বেড়িয়ে এসেছে চামচ
আর সেখানে চোখের সামনে দুলছে নিয়ন
চামচের গর্তে মার্বেল বলে উঠছে চান্দ্রকোষ
এইভাবে ক্রমশ কবিতা থেকে দূরে এসে
কামড়ে খাচ্ছি প্যারালাল টেক্সটের শারীরিক
কবিতা হয়ে উঠেছে ঘর

#
সুগন্ধ জড়িত হরিতাল ঋ
ছন্দ মথিত মৃদু সঞ্চরণ
আরাধ্যগামী
ওগো বাঁশরি মেটালিক
লা ইল লাহ্ ইল্লিলাহ্
বাঁশুরিয়া

#
মেঘলা ছাদের আড়ালে রসুল
ও মেঘময় শঙ্খচিল
শ্লথ চৌহদ্দির ধারাভাষ্যকার।
নদী পেড়োচ্ছে অ্যাভান গার্দ
অসতো মা সাদগময়
হে মাধব কুলপতি...
তমসো মা জ্যোতির্গময়
নশ্বর জিভের হোঁচটে নিরন্ন হাত পেতে আছি




Sunday, November 22, 2015

life of KRISHNA ALIAS DARSHANA





...kudos to all those, who enrich art... and live an unknown life... like a fire... like a wind...

...ART IS BORN LIKE A FIRE OF WHAT ITS BURN...


Tuesday, October 27, 2015

a cappella







a cappella is about a women- a women who chooses not to perform with instrument. she dears, she fears, she loves and learns how to escape through wormhole... silently... intently... 
starts to make her own harmony.


Thursday, June 18, 2015

পয়লা আষাঢ়



গালিচা পাতা রেড ফোর্ড
ঘোরাফেরা করি সভ্যতার প্রথম জলে
রাত বেয়ে নামা লার্ভার ইরাবতী
ক্যাসেলে নীলাম্বর
অপেক্ষাটুকু থাক শুধু একলা ঘরের
যেভাবে পুড়ে যাই ও হয়ে উঠি নিরাকার
মেঘের উত্তরে মেঘ জমে জমে হরিণা, সিংহী অথবা ফ্লাইওভার
এতদিনে এসে প্রেমের কবিতা লিখিয়ে নিচ্ছে
ওফেলিয়ার পোষাকে এজন্মের মঙ্গলধ্বণি
বিন্দুবারি ডাকি ওহি সখি
এই প্রথম আষাঢ়স্য দিবস্


***
রঙের আকুলে ছাপোষা
কোন্ কথা তোমাকে ছুঁয়ে যাবে নাভিকেন্দ্র
একবার ভাবি ভেজা বর্ষাতির মিথ্যাচার
না কি ‘এ ভরা বাদর’
শ্বাসরুদ্ধ অলস শরীরী অন্বেষণ
লেখার কোনো কথাই কখনো ছিলোনা
আসলে লিখবনা বলে বসেও আছি
ক্রমওয়েল পড়ছি আর লিপি আঁকছি
কবিতাকে ঘৃণা করতে চাইছি
গালাগাল দিচ্ছি ভূতগ্রস্থ জঙ্গলপুরাণ
স্নায়ুমুখ স্থানাঙ্ক জুড়ে শাড়ীর হস্তক্ষেপ
আনকোড়া তাঁতের সাক্ষাৎকার


***
গাছ, শব্দ আঁকলেই কবিতার কাছাকাছি
হামামের ঘোলারোদে উজ্জ্বয়নির প্রাচীনা
মফস্বল অলঙ্কারে চমকে ওঠা
বিদ্যুতপৃষ্ট বিগতযৌবন
ডালিমের দানাগুলোর মতোই শান্তিপ্রিয়
একটা উগ্র মেজাজী লজ্জা
যে ছবিগুলো লিখবো বলে ঘুরছি
আর অক্ষর আঁকছি
তাদের একটা দিক মেয়েটির বুকে আছড়ে পড়লো

যে মেয়ে
শূণ্যগর্ভ কামড় লিখে রাখে বাহুতে


***
কেউ দেখতে পাচ্ছে না কোন সে ধূসর
স্বরলিপিতে মৃত্যু লেখা হচ্ছে
অ্যাসপিরিনগুলোকে রঙীন মুক্তোর ভাবনায়
ক্রমশ জলের এসরাজ আর অ্যাশট্রে
এই ঘরেরও কিন্তু একটা গর্ভবতী অঙ্গবাস আছে
আছে তোমাকে আড়াল খোঁজার নিবারণ
আমার স্মৃতি কেবল আমাকেই গন্ডীতে জড়াচ্ছে
পড়ন্ত রোদের হিজল রোয়াক
একটু একটু করে রাবার ঘষে সৎকার করছি রেখা
হারিয়ে যাবে জানি তন্দ্রার পার্কস্ট্রীট
ধোঁয়ার রঞ্জনে আঙ্গুলের তিল

মুছে গেলে যতোটা জমা হয়ে ওঠে বাতাস



Monday, June 15, 2015

মোহনা নুপূর শব্দ...



স্তব্ধ নিরুচ্চারিত বসে আছি
মেহফিল প্রশয়ে দরদিয়া
অক্ষরেখা জানি
যেভাবে জানি দুধের পাগলামি
পোড়া দুধ গন্ধ ছড়াল ভ্যাপসা গরমে
হ্যান্ডবিল কুঁচকে পানিওয়ালার সরু নল
ভরকেন্দ্রে এখন এসেছি নির্ভার
ও প্রিয় বন্ধু সবটুকু গহীনে
চারণ ছুঁয়ে দেখে যা দারুচিনিবাহার



#
পুরোনো যোনীর তীরে
চাপা শ্বাস ফেলে নামিয়ে রাখলি
শিকড়ে-বাকড়ে মায়ার প্রলেপ
আজানকে নামিয়ে এসেছি পুরোনো ঘরে
এতসব কিছু অতীত হচ্ছে- খানেকটা বয়স বাড়ছে
ওদিকে তবে পুরাতনী নামে কেন কোন স্মৃতি নেই?
হাতড়ে যাচ্ছি শুধু স্তনের ভরসা
মা বলে ফেটে যেতে দেখেছি পাখীর শিস্
আঁকড়ে ধরছি প্রবল
মাটি খামচে যেভাবে পাখীদের ঘরে ডিম
কত গভীরে হাত চলে যায়
মুঠোর প্রকাশে মুখের আদল



#
যেখানে পিঙ্গল গুম্ফার ক্ষণ তাপ
যেখানে সহজিয়া আনমন ঝুমুর নিদ্রা
আমরা দেখেছি স্রোতটায় আজলা দরিয়া
বড় নিভৃতে সরে গিয়েছি ভিক্ষুকের লোনা পরাগে
তোমার কাছে আসার ছিল এটুকু জেনেই
প্রস্তুতিপর্ব জমিয়েছি প্রতি অনুনয়
একবার শুধু উপাচারে শান্ত বল
শুধু একবার হাত টেনে পুরোটা বা আরো বেশী
এ জন্মে ঘুমের বিপজ্জনক
সংকেত পেড়িয়ে এসে যে ঝর্ণা জন্ম
তাকে তো ভালবাসা বলে জানি
স্মরণযোগ্য কোনো উজ্জ্বল জানি নেই
নেই কোনো রসুন ছড়ানো তেজিয়াল
কুঁকড়ে পুঞ্চিত হয়ে যাই যেইক্ষণ
কপালে ঠোঁট নেমে আসে
তোকে শুধু বলে রাখি
শব্দের শ্রুতি ক্ষোভ
তোকে আমি খুব
আঁচড়ে ডাকি
রোহিনী বিভাব


#
আমাদের দিগ্বিদিক
সূক্ষ্ণ আঁকড়ে ঘুমজাগানিয়া
দুটো ভারী পাথর ঝুলছে গলার নীচে
কোমরের খাঁজে বসে
স্তন খুঁটে খুঁটে কারুবাকী পোড়াচ্ছি
যে তুমি কাছে আসলে এতটা স্বচ্ছ
দূরেও দেখায় নিপুন গম্ভীর
গলা দীর্ঘ হল
দশভুজার রঙীন গোলক
চন্দ্রহার দুলিয়ে সামনে উঠে এল যে
তাকে দেবী ভাবার আগে
জল দিয়ে কাদা ঘেটে সন্ধ্যা বানাই



#
কিভাবে বলার ছিল কোঁচকানো রাতের উষ্ণ
কথা খুঁড়ে একবার মুখ তুলে আনছি
আবার উঠে আসছে চায়ের বাগান
মাথার খোঁপায় গন্ধের সাম্রাজ্য
পাতা জমিয়ে সাজাচ্ছি শয্যা
ছায়াসুনিবিড় গাছ উল্টে এলো
ছত্রখান বুকের উপরে স্তনের কুচি
হাঁটু মুড়ে বসে দিকভ্রান্ত আকাশকে
শোনাচ্ছি মোহনা নুপূর শব্দ
আমাদের জঙ্গলের যৌথ আজ ঘাসের চাদরে পাতা হয়েছে
সেখানে হাতে হাত রেখে পরিপাটি চান্দ্রকোষ



#
বলা হয়ে ওঠে না
যেদিন অপেক্ষার ভিতর হতে রঙ দেখলাম
যে সময় নিঝুম বলে ভুল করে বসি
তোর চোখের কাঞ্চন নীল
তালুবন্দী ভিখিরি তন্দ্রা

বলা হয়ে ওঠে না
মনি কিসকুর তিক্ত শ্বাস
মত্যুভয় ধরা দিয়ে যায় পললরহিত
দমকা মেঘ শণিতের লিখিত ঘাম
তোকে শুধু তোকে বাজিকর সফেন গন্ধে
একফালি বিম্ববতী ওষ্ঠ
কুড়িয়ে এনে দিয়েছি

যেভাবে বলি নি
স্মৃতির সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে পরিশ্রুত উপশম
অভিমুখগুলো রোদের বিহনে
খুঁজছে জলছাপ আপেলের বন
ওগো বাতির সাঁঝ ও চোখে তো গোধূলি
মায়ের গোড়ালি আর আলতার চিড়
তেপান্তর জড়ানো রেখাবে ট্রাপিজের বিলক্ষণ
ওগো সাঁঝ চোখের তুণীরে সে তো নির্জন
বড় আপন তোর মায়াবী হাত ও হাতের বসন্ততিলক



#
এত বৃষ্টি পাঠাচ্ছি কেন আজ জানা নেই
এতো দহন ছুঁড়ে অভিমানী তন্দ্রা চাইছে গ্রামাঞ্চল
তোর গার্হস্থ্য শীতের পোষাকে
উদভিন্ন পাখীদের স্মৃতি
যারা আজও খুঁড়িয়ে হাঁটে
ভারী স্তনের মখমলে
যে রাত কাটিয়েছি শিরিষ কাগজে ঘষে ঘষে
তার দুফোঁটা শুদ্ধ
আমাদের বাড়ীটা ওই পাহাড়ের ঢালে
সেখানে সন্ধ্যায় মুখচোরা খঞ্জনী ভাসে

  

#
ঠোঁট রেখেছিলি এই তপ্ত মহোরকুঞ্জে
চুরমার হওয়া মেহগিনি শ্যাওলা
ফেরার গল্পটুকু তোর প্রোতাশ্রয়ে
উপচে যায় দহনকাল
আড়াল থেকে দেখে রাখি
স্কুল ফেরতা শাড়ির আঁচল
একটা টগর জন্মেছে গলির মুখে
শাটারের রঙ বদলে গেল একদিন
সন্ধ্যে হলে অন্ধকার জাপটে
ঘুরে আসি
শ্রাবণ ভেজা দোলনার খাঁজে
সই নাম লুকিয়ে ওগো সন্ধ্যা অপেরা
বড় নিভৃত কোল খুঁজি



#
আমাদের সংকীর্তনে আগমনী সংশয়
ছিলো কি কবেকার প্রাচীন মেঘের উদ্ভাস
কোনো কথা মুখ ফুটে আসেনা
চুমুতে নেশাতুর বেগুনী আকাশ
পুড়ে যাচ্ছে ফুটে চলা হরিণা
বন্ধ চোখে ছুঁয়ে থাকা স্নায়ুরেখা
ভোরবেলা আজানের পথ এসো ডুবে যাই
খালি চাঁদ সকালে সুনীলে স্থানুবৎ দুটি হাত

কোলে তুলে নিতে জানে মায়েরা যেভাবে
সদ্য ঘুম ভাঙ্গা শিশুটিকে



#
জানিনা আয়ুর ব্যসার্ধ
তাকে ছিঁড়ে পরিখা টেনে বন্ধ রাখছি নবজাতক
পায়ের নীচ হতে নিপুন তুলির টানে জন্মে যাচ্ছে অঙ্গসজ্জা
মাঝরাতে উঠে আসা পা খুলে নিতে জানে বিষন্নতার রঙ। কতটা নির্মোহ আর লেপ্টে থাকে।
হাত চুলে পড়তেই সেগুলি এক একটা রঙ্গীন সুতো
এবার বোনা হবে নকসিকাঁথা! এসব আয়োজনের মধ্যিটায় বসে রঙের সুতো মিলিয়ে, চুল খুলে, আঁচড়ে, বেনী বেঁধেছিলি- অভিমানী মায়াক্ষণ জড়িয়ে
নক্সা আঁকা ঢালুতে গোধূলি জমে



#
বলেছি কি সকালের ব্যস্ততার প্রান্ত ছুঁয়ে যেদিন জলে ধোঁয়া গাড়ী অপেক্ষা করছিলো আর আমি তন্তুর বায়নায় অতিশয় সামিয়ানা ছিঁড়ে আত্মসাৎ করছি দীপান্তর। সেদিন কি অদ্ভুত শুনশান হয়ে গিয়েছিল। স্বপ্নের মধ্যেও যেদিন দেখলাম মদিরা, চন্দন ও রক্তিম হুতাশনের আলকাপ- যে দিনগুলো আফগানী ভাবের জঙ্ঘা। দূর থেকে সিঁড়ির ওপরে উৎসর্গীকৃত জোৎস্না ভেবে শান্ত দাঁড়িয়ে দেখি, কি অনাবিল নিরুপম এসে জুড়ে যাচ্ছে নাভির পরিখায়।



#
মুখের কাছে মরুময় প্রশ্বাসের রুহিতন
পরবাস ও মন যেখানে ছায়ার প্যালেট
কুসুমে গ্রীবা যূথি, বেলা পোহালো
প্রলেপের মাঝে বসে বলে যাই আহ্লাদী দোষীমুদ্রা
ছায়াপুঞ্জ চুমুতে
ফাগুনের কাছে করেছি তোকে দান
যেসব মুদিয়ালি বারবার ছড়িয়ে দিই উত্তুরে ক্যানোপিতে

আর বৃষ্টির শব্দ দূর হতে ক্রমশ কাছে